জরিপ করে যোগ্য প্রার্থী বাছবে বিএনপি

ফাইল ছবি
চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থাকতে চায় ক্ষমতাসীন বিএনপি। এজন্য জরিপের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ভাবছে দলটির সর্বোচ্চ নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার পক্ষে মত কমিটির সদস্যদের।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠক, সেখানেই হয়েছে এসব আলোচনা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত চলা এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তাদের কাছ থেকেই জানা গেল এ মনোভাবের কথা। সেখানে উঠে আসে বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দলের মূল্যায়নও। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন-পুনঃখননের মতো কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে সন্তোষের কথাও সেখানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী দিনে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, তা নিয়েও হয় আলোচনা।
নির্দলীয়ভাবে হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে নাগাদ শুরু করা যেতে পারে, সে আলোচনা হয়। এতে কেউ কেউ মত দেন চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু করা যেতে পারে। তখন দু-একজন সদস্য আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের করা সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গটি তোলেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সদস্যরা বিষয়টি নাকচ করে দেন। বেশিরভাগ সদস্য চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মতামত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো মাস নির্ধারণ ঠিক হয়নি।
বেশিরভাগ সদস্যের মতে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরুর পরামর্শ উঠে আসে। যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ করার ওপরও হয় আলোচনা।
দেশের বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে’ সরকারি চাকরি প্রাপ্তির ওপর গুরুত্ব দিতে চান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো ‘অন্ধ দলীয়করণ’ করতে চান না তারা। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতন-নিপীড়নে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির নেতাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। সে আলোচনার সময়ই তুলে ধরা হয় দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত আর সেটি হলো চাকরির ক্ষেত্রে মূল্যায়ন হবে মেধার। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় দেখে চাকরি দেবে না বিএনপি।
বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়। তখন দুজন সদস্য দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিল করার বিষয়টি সামনে আনেন। বিএনপি চেয়ারম্যানও কাউন্সিল হবে বলে নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া যেসব কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের পক্ষেও মতামত উঠে আসে বৈঠকে।




