আগামীর চোখ
সরকারি ইগো, বেসরকারি বিল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
সজীব মিয়া,
আসসালামু আলাইকুম। আশা করি, আপনি ভালো আছেন। আপনার ভালো থাকাটাই এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি। কারণ আপনি ভালো না থাকলে আমাদের সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ ভালো থাকবে না। আর প্যাথলজি বিভাগ ভালো না থাকলে আমাদের মতো গরিব মানুষের রোগ নির্ণয়ও আপাতত মুলতবি থাকবে।
আপনার সঙ্গে আবু বকরের ব্যক্তিগত বিরোধ হয়েছে, শুনলাম। তিনি আপনার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগাল করেছেন। ব্যাপারটি নিশ্চয়ই খুব অপমানজনক। একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে আপনার আত্মসম্মান আছে, ডিগ্রি আছে, চাকরি আছে। সবই বুঝলাম। কিন্তু একটা বিষয় বুঝতে পারছি না, আবু বকরের সঙ্গে আপনার বিরোধে আমার জ্বরটা কেন আটকে গেল? আমাদের রোগ তো আপনার অভিমান বুঝে বিরতি নেয়নি!
আপনি বলেছেন, অভিযোগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ল্যাবে ফিরবেন না। চমৎকার সিদ্ধান্ত। সরকারি চাকরিতে এমন ব্যক্তিগত অবস্থান নেওয়ার অধিকার নিশ্চয়ই আছে! জনগণের টাকায় বেতন, সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, সরকারি অবকাঠামো— সবই থাকল; শুধু সেবাটা থাকল না। কী অপূর্ব প্রতিবাদ! আমাদের দেশে সরকারি সেবা বন্ধ রাখারও যে এত অভিনব কায়দা আছে, তা জানা ছিল না।
আমাদের কাছে আপনার আত্মসম্মানের দাম বোঝার মতো টাকা নেই, সজীব সাহেব
আপনার রিপোর্ট ভুল কি ঠিক, সেটি বিশেষজ্ঞরা দেখবেন। প্রয়োজন হলে তদন্ত হবে। আবু বকর অন্যায় করে থাকলে তারও বিচার হোক। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই বিচার শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর পকেটে কত টাকা আছে? সরকারি হাসপাতালে যে পরীক্ষা অল্প টাকায় করানোর কথা, বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে তার কয়েক গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে। আমাদের কাছে আপনার আত্মসম্মানের দাম বোঝার মতো টাকা নেই, সজীব সাহেব।
আপনি বলেছেন, রিপোর্ট ভুল প্রমাণিত হলে চুনারুঘাট থেকে বদলি হয়ে যাবেন। বাহ! কী কঠিন শাস্তির প্রস্তাব! কিন্তু রিপোর্ট ঠিক প্রমাণিত হলে আমাদের কী হবে? আমরা কি আপনার কাছে ক্ষমা চাইব? নাকি বন্ধ থাকা ল্যাবের সামনে দাঁড়িয়ে ফুলের মালা দিয়ে আপনাকে বরণ করব?
আপনার বিচার হোক, আত্মসম্মানও রক্ষা পাক। কিন্তু আমাদের চিকিৎসার অধিকারটুকু জিম্মি করে নয়। কারণ আমরা সরকারি হাসপাতালে আসি দয়া নিতে নয়, নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সেবা নিতে।
আপনার ব্যক্তিগত বিরোধ মিটুক, নিশ্চয়ই চাই। তবে মনে রাখবেন, সরকারি হাসপাতাল আপনার ব্যক্তিগত অভিমান প্রকাশের মঞ্চ নয়। এখানে রোগীরা আসেন চিকিৎসা নিতে, কারও আত্মসম্মানের মামলা দেখতে নয়।
ইতি
এক অসহায় রোগীর স্বজন



