আগামীর চোখ
ঘুষের চক্রব্যূহ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন
আশা করি ভালো আছেন। অবশ্য যে চেয়ারে বসে আছেন সেখানে ভালো থাকার কথা নয়। প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ ‘হট সিট’ বলে কথা। দেশের কোথায় কোন খাতে কত টাকার ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, কে দিচ্ছে, কে নিচ্ছে— এসব খবর নিতে গিয়ে এমনিতেই আপনি ক্লান্ত। তাই অভিযোগ জানিয়ে আপনার ক্লান্তি আর বাড়াব না। শুধু পরামর্শ চাইব।
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ‘ঘুষ.সাইটে’ মাত্র ১৬ দিনে ১৮ হাজার ৪২৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। মোট ঘুষের দাবি প্রায় ৫২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা! ঘুষের অভিযোগে ভূমি অফিস ও পাসপোর্ট অফিস শীর্ষে। মূলত এ তথ্য দেখেই আপনাকে চিঠি লেখার ইচ্ছে হলো।
বিদেশ যাব বলে জমি বিক্রির প্রয়োজন পড়ল। বিক্রি করতে গিয়ে দেখি ঠিকানায় একটু ভুল রয়েছে। সংশোধন করতে গেলাম ভূমি অফিসে। আপাতদৃষ্টে সহজ কাজ। ভেবেছিলাম, নিয়ম মেনে কাগজপত্র দিলেই কাজ হবে। কিন্তু নিয়মের সঙ্গে কিছু ঘুষও দিতে হলো। তারপর জমিটা বিক্রি করতে পারলাম। ভাবলাম, এখানেই ঘুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শেষ। কিন্তু পাসপোর্ট করতে গিয়ে আবারও ঘুষের মুখোমুখি হলাম। বুঝলাম, বিদেশ যেতে চাইলে শুধু পাসপোর্ট আর ভিসা নয়, ঘুষও লাগে। না এখনো তাদের ‘প্রসেসিং ফি (ঘুষগ্রহীতার ভাষায়)’ দিইনি। ফলে পাসপোর্টের কাজ থেমে আছে।
দ্বিতীয় অপশনে গেলে এ জন্মে আর বিদেশ যেতে পারব বলে মনে হয় না
আপনার কাছে আমার প্রশ্ন— আমি এখন কী করব? ঘুষ দিলে কাজ হবে, না দিলে কাজ আটকে থাকবে। অভিযোগ করলে তদন্ত হবে। তদন্ত হওয়া আর আটকে থাকা তো একই কথা। কবে তদন্ত শেষ হবে কেউই জানে না। দুই জায়গাতেই ফলাফল শূন্য। তাই আপনার দরবারে পত্র লিখছি। আমাকে একটু বুদ্ধি দিন। পরেরবার পাসপোর্ট অফিসে কাগজপত্রের পাশাপাশি ঘুষের টাকাও নিয়ে যাব? নাকি আগে অভিযোগ করব, তদন্তের জন্য অপেক্ষা করব? দ্বিতীয় অপশনে গেলে এ জন্মে আর বিদেশ যেতে পারব বলে মনে হয় না।
ঘুষ দেওয়া আমাদের পছন্দ নয়। দেশের কোনো নাগরিকেরই পছন্দ নয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজটা সময়মতো শেষ করাটা জরুরি। আর ঠিক এ জায়গায় আমরা বারবার হার মানি। রাজ্য যেহেতু ঘুষের— ফলে এ রাজ্যে আমরা বাধ্যতামূলক দাতা। কিন্তু কোনো একটি বাইপাস লাইন তো থাকবে, যে লাইন দিয়ে আমরা বেঁচে যেতে পারি; সে পরামর্শের আশায় থাকলাম।
ইতি
একজন ঘুষদাতা নাগরিক





