ঢাকা-দিল্লির রেল বৈঠকের প্রথম দিন সিদ্ধান্তহীন

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেলসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার প্রথম দিন সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রেলভবনে তিন দিনের এই সভা শুরু হয়। দিনব্যাপী চলা সভা শেষ হয়েছে বিকালে।
এতে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল, ভারতীয় ঋণে চলমান প্রকল্প, পণ্যবাহী ট্রেন এবং দুই দেশের রেলওয়ের মাঝে দেনা পাওনার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে, সভায় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।
রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইন্ট্রা-গভর্নমেন্ট রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) নামে পরিচিত এই বৈঠকটি প্রতিবছর নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এটি ৩৮তম বৈঠক। আগের বৈঠক বসেছিল নয়াদিল্লির রেলভবনে। চলমান বৈঠকে ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন।
বৈঠকের প্রথম দিন সম্পর্কে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথম দিনেই সিদ্ধান্ত আসতে হবে এমন নয়। আরও দুই দিন বাকি আছে। কাল (বুধবার) আলোচনাগুলো গুছিয়ে আনা হবে। শেষ দিন কার্যবিবরণী স্বাক্ষর হবে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আগামীর সময়ের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পক্ষে মৈত্রী এক্সপ্রেস, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীদের অতিরিক্ত মালপত্র বহনের জন্য লাগেজ ভ্যান সংযুক্ত করার বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী-কলকাতা নতুন রেল রুট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচলের পথ বদল করার প্রস্তাবও দিয়েছে ঢাকা। যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় অন্তত ৫ ঘণ্টা কমে আসবে।
বাংলাদেশ–ভারতের রেল ইন্টারচেঞ্জের মধ্যে বর্তমানে অচল সংযোগগুলো পর্যায়ক্রমে সচল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া মালবাহী ট্রেন পরিচালনা আরও সহজ করা এবং সীমান্ত স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তঃদেশীয় রেল অবকাঠামো, চলমান যৌথ প্রকল্পের অগ্রগতি, সীমান্ত রেলসংযোগ এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেছে উভয়পক্ষ।
বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ের এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিএনপি সরকার গঠন করার পর ঢাকায় মন্ত্রণালয় পর্যায়ে এটিই দিল্লির প্রথম সফর। আবার দুই বছরের বেশি সময় ধরে দুই দেশের মাঝে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই বৈঠক শেষ ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার একটি ইঙ্গিত তৈরি হয়েছে।
এর আগে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দেশের অভ্যন্তরে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল রেলওয়ে। তখন বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রেন চলাচলও। এরপর ওই বছরের ১২ আগস্ট সারা দেশে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু এতদিনেও বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল চালু করা যায়নি।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলছিলেন, ‘অন্য সময়ের চেয়ে এবারের বৈঠকের সময়টি ভিন্ন। তাই গুরুত্ব বেশি। সবার দৃষ্টি এখানে। এই বৈঠক সফল হলে অন্যান্য খাতের স্থবির হয়ে পড়া আলোচনাগুলো সচল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’





