আগামীর চোখ
অ-কাজে বেতন!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরবার
সিনিয়র সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
আমি এক বেকার তরুণ। চাকরি পাচ্ছিলাম না কোথাও। যা-ও দু-চারটে পেয়েছিলাম, সেগুলোতে যে বেতন অফার করেছিল— তাতে দিনগুজরান করা ভীষণ মুশকিল। হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। ঠিক সে পরিস্থিতিতে পত্রিকায় ‘৩ সাবেক ডিজিকে বেতন দিতে হচ্ছে বসিয়ে বসিয়ে’ শিরোনামের খবরটি পড়লাম।
প্রতিবেদন থেকে জানতে পারলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের সাবেক তিনজন মহাপরিচালককে দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখা হয়েছে। তারা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে অলস সময় পার করছেন, দপ্তরের কোনো ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না, প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না; অথচ প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি বেতন জমা হচ্ছে! এমন আরাম বিশ্বের আর কোনো চাকরিতে আছে কি না, আমার জানা নেই। এক্ষেত্রে অসুবিধা বলতে, উপরি কামাইয়ের রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতি বছর অনেক কর্মকর্তাকেই তো এভাবে ওএসডি করেন, তাদের সঙ্গে না হয় আমাদের জন্য সৃষ্ট পদে কিছুজনকে নিয়ে নেবেন
কী এক নিশ্চিন্ত জীবন তাদের, তাই না? সকালে উঠে বসের ঝাড়ি খাওয়ার ভয় নেই, ফাইল ছাড়ার দুশ্চিন্তা নেই, এমনকি পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার জটিলতায় পড়ারও কোনো সুযোগ নেই। সবার পদ সমান। এমন কর্ম আর কর্মপরিবেশই তো চাই!
বর্তমানে চাকরির বাজারের যে করুণ অবস্থা, তা তো আপনার অজানা নয়। লাখ লাখ টাকা খরচ করে উচ্চশিক্ষা শেষ করে আমার মতোই বেকার বসে আছে অসংখ্য তরুণ। আমাদের জন্য এরকম একটা পদ সৃষ্টি করা যায় কি না, দেখবেন। তাহলে বেশ ভালো হয়। প্রতি বছর অনেক কর্মকর্তাকেই তো এভাবে ওএসডি করেন, তাদের সঙ্গে না হয় আমাদের জন্য সৃষ্ট পদে কিছুজনকে নিয়ে নেবেন। ওএসডি কর্মকর্তাদের মতো আমাদের ঢাকায় রাখতে হবে না। ডিসেন্ট্রালাইজ পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতিটি জেলার ডিসি অফিস, উপজেলাগুলোতে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড অফিস— এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসেও নিয়োগ দিতে পারেন। কথা দিচ্ছি, প্রতিদিন টাইমলি অফিসে হাজির হব। শুধু মাস গেলে বেতনটা ঠিকঠাকমতো দিলেই হবে। অবশ্য বেতন নিয়ে অত চিন্তা আমার অন্তত নেই। এটা ভালো করেই জানি, সরকার তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুশি রাখে।
বেকার সমাজের কল্যাণে আমার এ প্রস্তাব ভেবে দেখার জন্য আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল। আরেকটি অনুরোধ, এ পদের জন্য আবেদন ফি রাখলেও দয়া করে পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখবেন না। পরীক্ষা ভীষণ ঝামেলার জিনিস।
ইতি
এক বেকার তরুণ



