বিদ্যুৎ নেই বিল আছে

প্রতীকী ছবি
সারা বিশ্ব যখন সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির অমিত সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখনো এক বড় আক্ষেপের নাম— নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ।
বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলেই এর প্রথম ও প্রধান আঘাতটি আসে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে। বছরের পর বছর মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলই লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তবে এবার সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে খোদ রাজধানীর অনেক এলাকাও। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আবার কোথাও দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, প্রতি বছর গ্রীষ্ম এলে কেন একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটে? এটি কি শুধুই চাহিদার আধিক্য, নাকি সঠিক দূরদর্শিতা ও ব্যবস্থাপনার অভাব? সংকটের সময় কিছুদিন আলোচনা, আর আশ্বাসের বাণী শোনা যায়। তারপর পরিস্থিতি আবার আগের মতোই আবর্তিত হতে থাকে। বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার ক্ষোভ এখন জনমনে তীব্র।
এই সংকট থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হবে। বাংলাদেশের জন্য ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং ‘নেট মিটারিং’ ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হতে পারে। সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানো গেলে তা জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকে চাপের একটি বড় অংশ কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে সিস্টেম লস বা অপচয় রোধেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যে দেশে বছরের অধিকাংশ সময় সূর্যের আলো থাকে, সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়টি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হিসেবে ফেলে রাখার সুযোগ নেই; এটাকে বর্তমান সংকটের সমাধান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
লেখক: শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ




