জ্বালানি চুক্তি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে

ফাইল ছবি
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ধারাবাহিকতা কেবল মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই স্থবিরতা আনছে না, দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবও ফেলছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ বৈদেশিক মুদ্রার সীমাবদ্ধতা এবং সময়মতো আমদানি করা জ্বালানির বকেয়া পরিশোধ করতে না পারা। দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব এবং আমদানিনির্ভর গতানুগতিক জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই এই সংকটকে এতটা ঘনীভূত করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে যেসব চুক্তি ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর সিংহভাগই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কুইক রেন্টাল কিংবা ক্যাপাসিটি চার্জের মতো অদূরদর্শী ও ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তগুলোই আজকের এই আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের জন্য দায়ী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও জ্বালানি খাতের সংস্কারে একধরনের ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। এমনকি বর্তমান সরকারের নীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানের চেয়ে সাময়িক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রবণতা বেশি দৃশ্যমান, যা সংকটকে শুধু দীর্ঘায়িতই করছে।
এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে প্রথমেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান জটিল ও অসম চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা বা সংশোধন করতে হবে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব খনিজ সম্পদ উত্তোলনে দেশীয় বিনিয়োগ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের প্রসারের এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বিদ্যুৎ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
পাশাপাশি নাগরিকদের পক্ষ থেকেও সচেতনতা জরুরি। বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে। আমাদের এটিও মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিগত সাশ্রয় কখনোই এই জাতীয় সংকটের মূল সমাধান হতে পারে না। এই সংকটের দায়ভার এবং সমাধানের মূল চাবিকাঠি— দুই-ই মূলত রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার ওপর বর্তায়।
লেখক: সম্পাদক, কালিহাতীর সাহিত্যাঙ্গন, টাঙ্গাইল




