Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
১৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন রিকশাচালক রেজাউল
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কলাম

নদী হত্যার অর্থনীতি মূল্য দিচ্ছে কারা

শাহেদ কায়েস
agamir somoy
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩
নদী হত্যার অর্থনীতি মূল্য দিচ্ছে কারা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

কয়েক বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে এক মাঝির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আগে এই পানি হাতে নিলে নদীর গন্ধ পাওয়া যেত, এখন কারখানার গন্ধ পাই।’ কথাটি তখন সাধারণ আক্ষেপের মতো শুনেছিলাম। পরে মনে হয়েছে, ওই একটি বাক্যের মধ্যে ঢাকার নদীদূষণের পুরো অর্থনীতি লুকিয়ে রয়েছে। নদী একই জায়গায় আছে, পানি বয়ে যাচ্ছে, নৌকাও চলছে; শুধু তার ব্যবহার বদলে গেছে। মানুষের জীবিকা ও জনজীবনের সম্পদ ধীরে ধীরে কারখানা, পয়োবর্জ্য এবং নগরের বর্জ্য বহনের বিনামূল্যের ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে ৪২৪টি উৎস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৩০ টন বর্জ্য যাচ্ছে। এর প্রায় ৬০ শতাংশের সঙ্গে শিল্পকারখানা যুক্ত। সংখ্যাগুলোকে বছরে হিসাব করলে চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। দৈনিক ৩৩০ টন হিসাবে বছরে বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন।

এখানে একটি নতুন হিসাব জরুরি। নদীতে ফেলা ৩৩০ টন বর্জ্য আসলে কার খরচ কমাচ্ছে? কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্জ্য পরিশোধন না করে নদীতে ফেললে তার উৎপাদন ব্যয় কমে। কোনো নগর কর্তৃপক্ষ তরল ও কঠিন বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে সে ব্যয়ও শেষ পর্যন্ত নদীর ওপর স্থানান্তরিত হয়। অর্থনীতির পরিভাষায় একে ‘এক্সটারনালাইজড কস্ট’ বলা যায়। লাভ থাকে উৎপাদক ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থার হিসাবে, ক্ষতির হিসাব ছড়িয়ে পড়ে জনগণের জীবনে। ফলে নদীদূষণকে শুধু পরিবেশগত ক্ষতি হিসেবে দেখলে সমস্যার বড় অংশ আড়ালে থেকে যায়। এখানে একধরনের অদৃশ্য ভর্তুকি কাজ করছে। দূষণকারী যখন নদীকে বিনামূল্যের বর্জ্য পরিবহন ও নিষ্কাশনব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করে, তখন প্রকৃতপক্ষে জনগণের একটি সম্পদ ব্যবহার করে নিজের উৎপাদন খরচ কমায়। সেই ভর্তুকির অনুমোদন কোনো বাজেটে থাকে না, সংসদে পাস হয় না, তবু বছরের পর বছর তা চলতে থাকে।

দূষণকারী যখন নদীকে বিনামূল্যের বর্জ্য পরিবহন ও নিষ্কাশনব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করে, তখন প্রকৃতপক্ষে জনগণের একটি সম্পদ ব্যবহার করে নিজের উৎপাদন খরচ কমায়

আর খরচটি কে বহন করে? নদীতীরের জেলে বহন করেন মাছ কমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। মাঝি বহন করেন দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে। নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ বহন করেন দূষিত পরিবেশের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে। রাষ্ট্র বহন করে পানি পরিশোধন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের বাড়তি ব্যয়ের মাধ্যমে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বহন করবে আরও কঠিন একটি নদী পুনরুদ্ধারের বোঝা। অর্থাৎ মুনাফা জমা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু হাতে, আর ক্ষতির ভার বহন করছে পুরো সমাজ।

এখানে শ্রেণিগত বৈষম্যের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার নদীতীরে বসবাস ও জীবিকার কারণে যারা সবচেয়ে বেশি সময় কাটান, তাদের বড় অংশই নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ। নৌকার মাঝি, জেলে, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বস্তি ও নিম্ন আয়ের এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন নদীর অনেক কাছাকাছি। দূষণের সিদ্ধান্ত তারা নেন না, দূষণ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধাও পান না; অথচ দূষিত পানি, দুর্গন্ধ, জীবিকার ক্ষয় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় অংশ তাদের জীবনেই জমা হয়। নদীদূষণ তাই পরিবেশগত বৈষম্যের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়।

নদীর পানি যত দূষিত হয়, নিরাপদ ব্যবহারের উপযোগী করতে শোধনপ্রক্রিয়া তত জটিল হয়ে ওঠে, বাড়ে অর্থব্যয়। দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্জ্য পরিশোধনে যে অর্থ সাশ্রয় করে, তার বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বহন করেন সাধারণ মানুষ। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, দূষণজনিত রোগের চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সরকারি অবকাঠামোয় বাড়তি ব্যয়ের মাধ্যমে সেই অর্থ জনগণের কাছ থেকেই আসে। একই দূষণের জন্য নাগরিককে একদিকে নিরাপদ পানির বাড়তি মূল্য দিতে হয়, অন্যদিকে চিকিৎসা ও করের অর্থের মাধ্যমেও সেই ক্ষতির বোঝা বহন করতে হয়।

এই অন্যায্য ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। যে দূষণ করবে, দূষণ প্রতিরোধ ও ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ ব্যয় তাকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে যুক্ত। দূষিত নদীর পাশে বসবাসকারী মানুষের নিরাপদ পরিবেশ, পানি, স্বাস্থ্য ও জীবিকার প্রসঙ্গ তাই শুধু পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মধ্যে আটকে থাকে না।

এখন জরুরি হলো, চিহ্নিত ৪২৪টি দূষণের উৎসের তালিকা শুধু সরকারি নথিতে রেখে না দিয়ে প্রতিটি উৎসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। প্রতিটি উৎসের পরিচয়, বর্জ্যের ধরন, দৈনিক আনুমানিক নিঃসরণ, বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা, পরিদর্শনের ফল এবং গৃহীত ব্যবস্থার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে ‘দূষণকারী মূল্য দেবে’ নীতিকে জরিমানা আদায়ের মধ্যে সীমিত রাখলে চলবে না। নদীর যে ক্ষতি হয়েছে, তার পুনরুদ্ধার ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকার ক্ষতিও অর্থনৈতিক হিসাবে আনতে হবে।

শিল্পের উৎপাদন খরচের হিসাবে নদীদূষণ ও তার ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় যুক্ত না হলে, সেই শিল্পের উৎপাদিত পণ্যকে প্রকৃত অর্থে সস্তা বলা যায় না। ঢাকার নদীগুলোর সামনে তাই শুধু ৩৩০ টন বর্জ্যের হিসাব নেই। সামনে আছে আরও বড় একটি হিসাব— দূষণ করে কারা অর্থ সাশ্রয় করছে, আর সেই সাশ্রয়ের মূল্য কার জীবন থেকে কাটা হচ্ছে? এই হিসাব প্রকাশ্যে আনা গেলে নদীদূষণের আলোচনা আবেগের জায়গা পেরিয়ে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের কেন্দ্রে পৌঁছাবে। তখন নদী পরিষ্কার করার পাশাপাশি দূষণের খরচও ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে তার প্রকৃত উৎসের কাছে।

 

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকারকর্মী

 

নদী হত্যাঅর্থনীতিবুড়িগঙ্গাজরিপবর্জ্যকলাম
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    কে হচ্ছেন ‎শিল্পকলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক

    কে হচ্ছেন ‎শিল্পকলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক

    এমপি নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে একাধিক চিরকুট উদ্ধার

    এমপি নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে একাধিক চিরকুট উদ্ধার

    নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

    নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

    ২০ বছর বঞ্চিত ঠিকাদারদের ভাগ্য খুলছে

    ২০ বছর বঞ্চিত ঠিকাদারদের ভাগ্য খুলছে

    বার্লিনে বামপন্থীদের জয়, চাপে চ্যান্সেলর মের্ৎস

    বার্লিনে বামপন্থীদের জয়, চাপে চ্যান্সেলর মের্ৎস

    বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যত তহবিলের মুনাফা হার বাড়ল

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যত তহবিলের মুনাফা হার বাড়ল

    কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়তে পারে বাসভাড়া

    কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়তে পারে বাসভাড়া

    চীন-পাকিস্তান সীমান্ত সমঝোতায় ভারত কেন অস্বস্তিতে

    চীন-পাকিস্তান সীমান্ত সমঝোতায় ভারত কেন অস্বস্তিতে

    আমার মেয়ের পরিণতির জন্য ওবায়দুর দায়ী : মরিয়মের বাবা

    আমার মেয়ের পরিণতির জন্য ওবায়দুর দায়ী : মরিয়মের বাবা

    আজমুল হত্যা: মেস ম্যানেজার মেহেদীকে খুঁজছে পুলিশ

    আজমুল হত্যা: মেস ম্যানেজার মেহেদীকে খুঁজছে পুলিশ

    কল্পনাকে হার মানানো নিষ্ঠুরতার শিকার কোমলমতিরা

    কল্পনাকে হার মানানো নিষ্ঠুরতার শিকার কোমলমতিরা

    আবারও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হলেন তানজিম ওয়াহাব

    আবারও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হলেন তানজিম ওয়াহাব

    দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: এমপি নজরুল, প্রথম স্ত্রী দুজনই রিমান্ডে

    দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: এমপি নজরুল, প্রথম স্ত্রী দুজনই রিমান্ডে

    কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে যুবক আটক

    কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে যুবক আটক