তবে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে জুলাই থেকেই। এমন খবর শুনে হয়তো অনেকে ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেছেন— কে কত ইনক্রিমেন্ট পাবেন। ফেলছেন স্বস্তির নিঃশ্বাসও— ‘এই বাজারে তো আর চলা যাচ্ছিল না!’ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে ভালো কথা। তবে কিছু কথা থেকে যায়, বেতন বাড়ার সঙ্গে বাড়ে সবকিছুর দাম।
বাজারে আলুর দাম শুনে মানুষের দম বন্ধ হওয়ার দশা! ডিম কিনতে গেলে মনে হয় যেন স্বর্ণের বার হাতে নিয়ে ফিরছি। মাছ-মাংস তো অনেকের কাছে এখন অতিথি আপ্যায়নের আইটেম।
রাতভর গলিতে হুইসেল বাজিয়ে পাহারা দেওয়া মানুষটার তো বেতন বাড়েনি। সকালে অফিসগামী মানুষের জন্য গেট খুলে দেওয়া দারোয়ান এখনো একই টাকায় সংসার চালান। বেসরকারি অফিসে যারা কাজ করেন তাদের বেতনও আগের জায়গায়। গার্মেন্টসের শ্রমিক, রাইডার, দোকানকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী— তাদের জন্যও তো একই বাজার। চালের কেজি তাদের জন্য আলাদা দামে বিক্রি হয় না।
অর্থনীতিবিদদের অনেকে অবশ্য বলছেন, শুধু সরকারি খাতে বেতন বাড়ালে বাজারে চাহিদা বাড়ে আর উৎপাদন বা কর্মসংস্থান না বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপও সৃষ্টি হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, ‘এতে বাজারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।’
বাংলাদেশে এই বাক্যটার একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। জ্বালানির দাম বাড়লেও বলা হয় বাজারে প্রভাব পড়বে না; ডলারের দাম কিংবা ভ্যাট বাড়লেও একই কথা বলা হয়। শেষ পর্যন্ত শুধু বাজারটাই রহস্যজনকভাবে বেড়ে যায়।




