এইচএসবিসির বিরুদ্ধে ২৫৭ কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

এইচএসবিসি থেকে চাকরিচ্যুত ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলনে। ছবি: আগামীর সময়
এইচএসবিসি বাংলাদেশের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের নামে ২৫৭ কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, শ্রম আইন অনুসরণ না করে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং এ কারণে আইনগত অধিকার ও প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দাবি করেছেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ।
শনিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, আনু রায়হান, সুবক্তগিন মাহমুদ, আলমগীর কবির, মুস্তাফিজুর রহমান ও মনজুর মোর্শেদসহ অন্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এইচএসবিসির সাবেক কর্মকর্তা আলমগীর কবির। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিনিয়র আইনজীবী মোকাররম হোসেন সাকলায়েন।
লিখিত বক্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একযোগে ২৫৭ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের অনেকেই ১৫ থেকে ২৫ বছর ধরে ব্যাংকটিতে কর্মরত ছিলেন।
তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো নথিতে কর্মীদের ‘রিট্রেঞ্চড’ বা ছাঁটাইকৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও কর্মীদের হাতে শ্রম আইন ২৬ ধারার অধীনে সাধারণ চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাঁটাই-সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আইনগত সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে এক ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হলেও কর্মীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিভ্রান্ত করার কৌশল বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানেরও সমালোচনা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে তিনি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাকেও গুরুত্ব দেননি।
তাদের ভাষ্য, কর্মীদের আবেদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিলেও আদালতে এইচএসবিসি দাবি করেছে, ওই নির্দেশনা বাধ্যতামূলক নয়। এতে দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে মোট নয়টি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ, শ্রম অধিদপ্তরকে অবহিত না করা, জ্যেষ্ঠতার নীতি অনুসরণ না করা, পুনর্নিয়োগে অগ্রাধিকার না দেওয়া, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি থেকে বেআইনিভাবে অর্থ কর্তন, ঋণ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে শ্রম আইন লঙ্ঘন, হোম লোনের সুদের হার বৃদ্ধি, রিলিজ লেটার আটকে রাখা, জোরপূর্বক আইনি অধিকার ত্যাগের দলিলে স্বাক্ষর নেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত উপেক্ষা করা।




