‘কাণ্ডারি চল’ আর্জেন্টিনার জন্যই ডেডিকেটেড

নতুন গান ‘কাণ্ডারি চল’ প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় গায়িকা মিলা ইসলাম। গান, ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। তবে একটা টিভি শো করার পর থেকেই দেখছি সবাই আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে চাইছে। দেখলাম কোথা থেকে যেন সংসার ভাঙা নিয়ে নানা ধরনের শিরোনাম হচ্ছে। অথচ আমি এসব বিষয়ে কোনো কথাই বলিনি। আমি খুব অবাক হয়েছি। আমার ডিভোর্স হয়েছে আট বছর আগে। এতদিনে তো আমার আরও আটটা বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা ছিল! মানুষ এখনো সেই পুরনো বিষয় নিয়েই পড়ে আছে। অথচ আমি এখন কাজ করছি, গান করছি। আমার জীবনে অনেক নতুন বিষয় এসেছে। কেন বারবার সেই পুরনো প্রসঙ্গ টেনে আনা?
আপনার নতুন গান ‘কাণ্ডারি চল’ বেশ আলোচনায় এসেছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
যেখানেই যাচ্ছি, ফেসবুক হোক কিংবা অন্য কোথাও, সবাই খুব ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। অনেক দিন পর একটা গান নিয়ে এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। এটি সত্যিই ভালো লাগছে।
অনেক দিন পর ফুয়াদ আল মুক্তাদীরের সঙ্গে কাজ করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
আমরা যখনই একসঙ্গে কাজ করি, আমি জানি ভালো কিছুই হবে। উনি আমার কণ্ঠ খুব ভালো বোঝেন। কোন ধরনের গান আমার কণ্ঠে ভালো মানাবে, সেটি উনার খুব পরিষ্কার ধারণা আছে। আমাদের দুজনের মধ্যে একটা কমফোর্ট জোন তৈরি হয়েছে অনেক আগেই। তাই একসঙ্গে কাজ করতে আলাদা করে খুব বেশি পরিকল্পনা করতে হয় না। ভেবেছিলাম, উনার সঙ্গে হয়তো নিজের কোনো সলো গান করব। কিন্তু ফুয়াদ ভাই একদিন ফোন করে বললেন, ‘অনেক দিন একসঙ্গে গান করা হয়নি। একটা প্রজেক্ট আছে, চল করি।’ ফুয়াদ ভাইয়ের ওপর এতটাই ভরসা করি যে, ভয়েস দিয়ে আসার পর আর জানতেও চাইনি কী হচ্ছে। জানি, উনি এটিকে সুন্দরভাবেই শেষ করবেন।
শুনছি ‘কাণ্ডারি চল’ গানটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় কনসার্ট করার পরিকল্পনা আছে?
একটি জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপে পুরো আয়োজনটি হচ্ছে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে তাদের নতুন একটি ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবেই গানটি তৈরি হয়েছে। আমার যতটুকু জানা, ফুয়াদ ভাই পুরো প্রজেক্টটি সমন্বয় করছেন। সামনে বিভিন্ন জেলায় এই গানকে কেন্দ্র করে লঞ্চিং, কনসার্ট এবং আরও অনেক কার্যক্রম হবে।
আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে আলাদা কোনো গান করার পরিকল্পনা আছে?
(হাসি) আমি যখন কোনো গান পোস্ট করব, তখন সেটিকে আমি আমার পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনার জন্য উৎসর্গ করতেই পারি। তবে কেউ যদি ব্রাজিলের সমর্থক হয়, সে চাইলে তার দলকে উৎসর্গ করুক। ‘কাণ্ডারি চল’ আমার দিক থেকে আর্জেন্টিনার জন্যই ডেডিকেটেড।
চলচ্চিত্রের ‘ও দরদি কি মাছ’ এবং ‘গুলগুলি পিঠা’ গানগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা আছে?
আমি শিল্পী। গান গাওয়াই আমার কাজ। সেটি যদি চলচ্চিত্রের জন্য হয়, করব। যদি সলো গান হয়, সেটিও করব। যদি স্টেজের জন্য হয়, সেটিও করব। আমার কাছে মূল বিষয় হচ্ছে ভালো গান। আমি এখন অলওভার মিউজিক নিয়েই কাজ করতে চাই। ভালো প্রজেক্ট হলে অবশ্যই করব।
আপনি তো নিজেও সুর ও সংগীত করেন। এখনো কি নিয়মিত করছেন?
অবশ্যই করছি। আমার নিজের স্টুডিও আছে। নিয়মিতই কাজ করি। নতুন করে স্টুডিও আরও আপডেট করছি। তবে দেশের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আগের মতো বড় পরিসরে কাজ করা যাচ্ছে না। আমি আশা করি, সামনে আবার ভালো সময় আসবে।
অ্যালবাম প্রকাশের সময়টা মিস করেন?
খুবই করি। আমাদের পুরো প্রজন্মই ওই সময়টাকে মিস করে। এখনকার প্রজন্ম বুঝবে না, একটা অ্যালবাম প্রকাশের উত্তেজনা কেমন ছিল। মানুষ ক্যাসেট কিনত, সিডি কিনত, অটোগ্রাফ নিত, পোস্টার সংগ্রহ করত। আমার এখনো মনে আছে, অনেকেই প্রিয় মানুষকে নিজের পছন্দের গান রেকর্ড করে ক্যাসেট উপহার দিত। গান তখন মানুষের অনুভূতির অংশ ছিল।
এখনকার গান কতটা টিকে থাকবে বলে মনে হয়?
আগের প্রেম যেমন অনেক দিন টিকত, গানও তেমন অনেক দিন মানুষের সঙ্গে থাকত। এখন অনেক কিছুই খুব দ্রুত বদলে যায়। সত্যি বলতে, আমি আগের সেই দিনগুলো খুব মিস করি।
ব্যক্তিগত কারণে ক্যারিয়ারে একটা সময় বিরতি ছিল। সেই সময়টার জন্য কি কখনো আফসোস হয়?
আমি আমার জীবন নিয়ে কোনো আফসোস করি না। অনেকে মনে করেন, আমার জীবনের একটা খারাপ সময় গেছে। কিন্তু আমি এটিকে সেভাবে দেখি না। আমার জীবনে কিছু পারিবারিক জটিলতা ছিল। তখন আমি মানসিকভাবে একটু অস্থির ছিলাম। একজন শিল্পী যদি নিজের ভেতরে শান্তি না পায়, তাহলে সে দর্শক-শ্রোতাদেরও আনন্দ দিতে পারবে না। গান আমার সবচেয়ে বড় ভালোবাসার জায়গা। সেই জায়গাকে আমি কখনো অসম্মান করতে চাইনি। তাই যখন মনে হয়েছে, আমি শতভাগ মনোযোগ দিতে পারছি না, তখন নিজেকে একটু সময় দিয়েছি। এরপর করোনা চলে আসায় গান থেকে কিছুটা দূরে থাকা হয়েছে। তবে সেই সময়টা আমার জীবনে বড় কোনো ইস্যু হয়নি।
বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ কীভাবে দেখেন?
আমি কাউকে বিচার করা পছন্দ করি না। কেউ আমাকে বিচার করুক, তা-ও চাই না। নতুনরা যেভাবে কাজ করছে, তাদের সেভাবেই কাজ করতে দেওয়া উচিত। একজন মাইকেল জ্যাকসন আর কখনো আসবেন না। আমরা সবাই তাকে অনুসরণ করেছি, কিন্তু কেউ তো মাইকেল জ্যাকসন হতে পারিনি। ঠিক তেমনি, আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ‘মিলা’ হতে। অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা করিনি। আমি সবাইকে একটা কথাই বলি—‘ডোন্ট ট্রাই টু বি মিলা, বি ইউরসেলফ।’




