বিবিএসের পরিসংখ্যান কতটা বিশ্বাসযোগ্য
- আজ সংসদে জবাব দেবেন অর্থমন্ত্রী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের পর বর্তমান বিএনপি সরকারও আগের সময়ে জিডিপি, মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন সূচকে তথ্য গোপনের অভিযোগ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিএসের তথ্যের মান নিয়ে আজ রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ১৫টি প্রশ্নের মুখে পড়বেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংসদ সদস্যদের এসব প্রশ্নের উত্তর চলতি অধিবেশনেই দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক সচিব আলেয়া আক্তার আগামীর সময়কে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদের প্রচেষ্টায় এবং ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের তৈরি করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিবিএসের অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ, তথ্য প্রাপ্তির নীতিমালা তৈরি এবং ডিজির পদের নাম পরিবর্তনের মতো কাজ শুরু হয়। কিছু কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অনেক প্রশ্ন আর থাকবে না।
সূত্র জানায়, সংসদীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত আসন-২৯-এর সংসদ সদস্য ফাহিমা খাতুন মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সমন্বয়ের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইবেন। পাশাপাশি পরিসংখ্যানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক মূল্যস্ফীতির হিসাব তৈরি এবং তথ্য সংগ্রহে বাজারের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন রাখবেন। এর পাশাপাশি তার আরও পাঁচটি সম্পূরক প্রশ্ন রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার জনবল সংকট নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি আনিছুর রহমান। তিনি তার এলাকার উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসগুলোর শূন্যপদ, নবগঠিত ডাসার উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইবেন।
নওগাঁ-৩ আসনের এমপি মো. ফজলে হুদার মূল প্রশ্ন থাকবে দেশের প্রধান আর্থ-সামাজিক সূচকগুলোর হালনাগাদ অবস্থা এবং সময়োপযোগী ও নির্ভুল ডিজিটাল পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে। এ ছাড়া নিয়মিত ও সময়োপযোগী পরিসংখ্যান প্রকাশে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী এবং জাতীয় পর্যায়ে নির্ভুল, সমন্বিত ও ডিজিটালভিত্তিক পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, এ বিষয়েও প্রশ্ন রাখবেন তিনি।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত আসন-৩০-এর এমপি আরিফা সুলতানা পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী নারী-পুরুষের অনুপাত এবং শিক্ষার বর্তমান হার জানতে চাইবেন। তিনি গ্রামীণ জনসংখ্যার সঠিক ডেটাবেজ ব্যবহার করে স্থানীয় উন্নয়নের জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও প্রশ্ন রাখবেন।
এ ছাড়া রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি হারুন-অর-রশিদ পাংশা, বালিয়াকান্দি এবং কালুখালী উপজেলার দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান ও কৃষির হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রণয়ন এবং এসব তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কোনো বিশেষ উদ্যোগ আছে কি না, সে বিষয়ে আজ অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।




