সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি লোগো
দেশের ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে সরকারি মালিকানায় এনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা দক্ষ, সৎ ও বিশ্বস্ত পেশাদারদের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানালেন তিনি। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে এবারের বাজেট’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে ঢাকা কলেজ এবং বিরোধী দল হিসেবে অংশ নেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা।
অধ্যাপক আবু আহমেদ উল্লেখ করেছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) অনুমোদন দেওয়ায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর অনেকগুলোই এখন ব্যর্থ হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই টেকসই নয় এবং ধীরে ধীরে ব্যর্থ হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেছেন, বাজেটে দেওয়া কর-সুবিধা শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমানো, লভ্যাংশের ওপর কর হ্রাস এবং অ্যাসেট সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ থেকে বন্ড বা সুকুক ইস্যু করে তহবিল সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বাজারের গভীরতা বাড়াতে ইউনিলিভার, নেসলে, মেটলাইফসহ বহুজাতিক ও লাভজনক সরকারি কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা দিয়ে তালিকাভুক্ত করাতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও লভ্যাংশের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, দেশের মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো— বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা, অতিরিক্ত ঋণের বোঝা, সরকারের উচ্চ পরিচালন ব্যয়, দুর্বল রপ্তানি, ডলারের অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসসংকট। এসব কারণে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। তবে ৫ দশমিক ৫ বা ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় সাফল্য হবে। শুধু করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় সম্ভব নয়; অর্থনীতি সচল থাকলে লেনদেন বাড়বে, তাতেই রাজস্বও বাড়বে।




