Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
শিক্ষকের পেনশনের টাকায় ‘শিশুস্বর্গ’
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় স্মরণ

শাহাদত চৌধুরী, আমাদের সাংবাদিকতার কিংবদন্তি

  • জন্মদিনে স্মরণ
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৪
শাহাদত চৌধুরী, আমাদের সাংবাদিকতার কিংবদন্তি

শাহাদত চৌধুরী। স্কেচ শেখ আফজাল

পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিজয়ের মধ্য দিয়ে। প্রয়াত শাহাদত চৌধুরী ছিলেন সেই মেদিনী কাঁপানো মুক্তিযুদ্ধের এক অন্যতম বীর আর সাংবাদিকতার ইতিহাসের এক কিংবদন্তি সম্পাদক। এই মানুষটির জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৮ জুলাই। তিনি প্রথম জীবনে ছিলেন শিল্পশিক্ষার্থী, চারুকলায় ভর্তি হয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের প্রিয় ছাত্র হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে জীবনের মায়া তুচ্ছ করে তুলি ফেলে তিনি হাতে নিয়েছিলেন আগ্নেয়াস্ত্র, নেমেছিলেন রণাঙ্গনে। আবার যুদ্ধ জয়ের পর সদ্যজাত বাংলাদেশের জন্য তিনি শুরু করেছিলেন আরেকটি অত্যাবশ্যকীয় এবং অনন্য যুদ্ধ; তিনি ছিলেন দেশের মানুষের মনন, সৃজন, রুচিশীলতা, মুক্তবুদ্ধি ও অপরিমেয় সম্ভাবনার দিকনির্দেশনা দানকারী এক কৌশলী কলম-যুদ্ধ। অস্ত্রের নাম ছিল সাপ্তাহিক বিচিত্রা নামের একটি ম্যাগাজিন, আর সহযোদ্ধারা ছিলেন তারই হাতে প্রশিক্ষণ নেওয়া বিচিত্রায় কাজ করা একদল তরুণ সাংবাদিক।

সৈয়দ শামসুল হক বা শওকত আলী হয়তো বললেন, এভাবে কাগজ না ছিঁড়লে হয় না! একান্ত নিজস্ব লজ্জিত ভঙ্গিতে হাতের কাগজ ফেলে দিয়ে তিনি নড়েচড়ে বসলেন, যেন আর ছিঁড়বেন না—এমন একটি মনোভাব

তিনি কেমন সম্পাদক ছিলেন, কেমন মানুষ ছিলেন, তা বোঝা যায় কিছু চিরন্তন দৃশ্যে। বিচিত্রার প্রারম্ভিক দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেসব লিখেছেন শামীম আজাদ, গোলাম মোর্তজা এবং মঈনুল আহসান সাবেরের মতো লেখক-সাংবাদিকরা। গোলাম মোর্তজা তার দেখা শাহাদত চৌধুরীকে নিয়ে লিখেছেন— ‘বিচিত্রার ছোট্ট রুমটিতে তিনি হেলান দিয়ে চেয়ারে বসে নিউজপ্রিন্টের প্যাড থেকে একটির পর একটি কাগজ নিচ্ছেন, আর ছিঁড়ছেন। অনর্গল কথা বলছেন। কথায় হালকা রসিকতা আছে, আর আছে মুক্তিযুদ্ধ—প্রায় পুরোটা জুড়েই মুক্তিযুদ্ধ। জীবনটা জুড়েই ছিল ১৯৭১, রণাঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধ। ২ নম্বর সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, গেরিলা কমান্ডার মেজর হায়দার বা মুক্তিযোদ্ধা ওহাব বা নজু ভাইয়ের বীরত্বের গল্প বলতেন আর চোখ মুছতেন। সামনে হয়তো বসে আছেন ফয়েজ আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক বা শওকত আলীর মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব অথবা অফিসের কর্মীরা—তার আচরণ-ভঙ্গি সবার কাছে একই রকম। সৈয়দ শামসুল হক বা শওকত আলী হয়তো বললেন, এভাবে কাগজ না ছিঁড়লে হয় না! একান্ত নিজস্ব লজ্জিত ভঙ্গিতে হাতের কাগজ ফেলে দিয়ে তিনি নড়েচড়ে বসলেন, যেন আর ছিঁড়বেন না—এমন একটি মনোভাব। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার কাগজ ছিঁড়তে শুরু করলেন। নিউজপ্রিন্টের একটি প্যাড শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আরেকটি প্যাড সামনে দিয়ে গেলেন বিশ্বস্ত অফিস সহকারী মনির। এভাবেই গল্প আর কাগজ ছিঁড়তে ছিঁড়তে তিনি বাংলাদেশের সমাজ-জীবন-নিজস্বতা-রুচিবোধ ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক কিছু দৃষ্টান্তের জন্ম দিয়ে গেছেন।’

মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’র পাতায় পাতায় তিনি জীবন্ত। হাবিবুল আলম বীরপ্রতীকের ‘ব্রেভ অব হার্ট’ বইয়ে আছে তার গেরিলা অপারেশন পরিকল্পনার বিশদ বর্ণনা। ১৯৭১ সালে ২ নম্বর সেক্টরের গেরিলারা ঢাকায় যে অপারেশন চালিয়েছিলেন, তার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন শাহাদত চৌধুরী। পুরান ঢাকার হাটখোলায় তাদের পারিবারিক বাড়িটি ছিল গেরিলাদের অন্যতম ঘাঁটি—মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে আশ্রয় নিতেন, অস্ত্র মজুদ রাখতেন। সহযোদ্ধা রুমী ধরা পড়ার পর ঢাকা শহরে পাকিস্তানি বাহিনী যে দশ-বারোটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার করেছিল, তার মধ্যে ছিল শাহাদত চৌধুরীদের এই হাটখোলার বাড়িটিও। শাহাদত চৌধুরী, ফতেহ চৌধুরী, ডা. মোরশেদ চৌধুরী—তিন ভাই একসঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে প্রথম কিছু নির্দেশনার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফতেহ চৌধুরী; তারপর সেদিনই টেলিভিশন থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশবাসীর প্রতি নির্দেশনা দেন মেজর হায়দার। এসব কিছুর সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন শাহাদত চৌধুরী।

তার ব্যক্তিত্বের গভীরতা বোঝা যায় একটি বিখ্যাত ঘটনায়। ‘ব্রেভ অব হার্ট’-এ বর্ণিত আছে, একবার খালেদ মোশাররফ তাকে ডেকে বললেন, ‘শোনো শিল্পী, আমি ঢাকাকে গোরস্তান বানাতে চাই। একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চাই।’ শাহাদত চৌধুরী প্রশ্ন করলেন, ‘কাদের দিয়ে মিশিয়ে দেবেন?’ খালেদ মোশাররফ বললেন, ‘কেন, তোমাদের দিয়ে, ছাত্রদের দিয়ে।’ শাহাদত চৌধুরী নির্ভীক কণ্ঠে উত্তর দিলেন, ‘ছাত্ররা কি এখানে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছেন, তাদের বাবা-মাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে? তারা কি তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে এখানে এসেছেন? আপনি কি আপনার মা-মেয়েকে হত্যা করতে চান? আপনি এটি করতে পারেন না।’ খালেদ মোশাররফ থমকে দাঁড়ালেন। প্রথমবারের মতো কোনো সিভিলিয়ান তার সঙ্গে যুদ্ধের তর্কে জড়ালেন। আর এই তর্কের মধ্য দিয়েই তৈরি হলো এক অটুট সখ্যতা, বদলে গেল পুরো যুদ্ধ-পরিকল্পনা। সিদ্ধান্ত হলো গোরস্তান নয়, ঢাকায় যারা আছেন তারা যেন ঢাকাতেই থাকেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। শাহাদত চৌধুরী লিখলেন দশ-বারোটি পয়েন্টের সেই লিফলেট, যা সম্পাদনা করলেন খালেদ মোশাররফ নিজেই, আর তা ছড়িয়ে দেওয়া হলো ঢাকা শহরে। এই লিফলেট বিলির প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল? হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক বলেছিলেন, ‘ঢাকা শহরে অবস্থানরতদের মধ্যে একধরনের স্বস্তি ফিরে এলো। ঢাকা শহরে থাকা মানুষের উপলব্ধিতে এলো যে, পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে পাল্টা কিছু একটা হতে যাচ্ছে।’

একাত্তরে রণাঙ্গনে
স্বাধীন বাংলাদেশে চিত্রশিল্প নয়, সাংবাদিকতা ও লেখালেখিকেই তিনি নেশা ও পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। অসম্ভব মেধাবী এই সম্পাদককে পেয়ে ১৯৭২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বের হওয়া বিচিত্রা বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও শৈল্পিকজগতে যে প্রবর্তন আনতে পেরেছিল, তার তুলনা হবে না কোনোদিন। তিনি ছিলেন একজন পোস্টমর্ডান চিন্তক, অগ্রগতির এক অনন্য উদ্ভাবক, অভিনব ও বিচিত্র ধ্যান-ধারণার প্রবর্তক। তার নিজস্ব সাংবাদিক বাহিনীর কাজ ও সুখ-দুঃখের নিত্যসাথী হয়ে থাকতেন তিনি। বিচিত্রা পত্রিকার প্রাণভ্রমর ছিলেন শাহাদত চৌধুরী। প্লেবয় থেকে শুরু করে নিউজ উইক, টাইম, ভোগ—যাবতীয় ম্যাগাজিনের পাঠক ছিলেন তিনি, বর্ণাঢ্য বিষয়বস্তুর বইয়েরও পাঠক ছিলেন। অথচ তিনি গড়ে তুললেন একান্তই বাংলাদেশের নিজস্ব ম্যাগাজিন-সংস্কৃতি।

সম্পাদক হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন, তার ছাপ পড়েছে তার সম্পাদিত বিচিত্রার প্রায় প্রতিটি কাজে। তিনি ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। বিচিত্রা ১৯৭৮ সালে করলে গর্ভপাতের পক্ষে প্রচ্ছদ; সময়ের চেয়ে এগিয়ে থেকে নারীর ছবি দিয়ে করলে ‘বিয়ে একটি সনাতন প্রথা’ শিরোনামের প্রচ্ছদ। স্বাধীনতার পর প্রথম গণপিটুনিতে নিহত যুবককে নিয়েও বিচিত্রা প্রচ্ছদ করল; সেই সংখ্যায় মাসুদ রানার লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন বিচিত্রাকে বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতার পর দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়েছে, প্রাণের মূল্যই কি শুধু কম থাকবে?’ ১৯৭৩ সালে বিচিত্রার বছরের আলোচিত চরিত্র ছিল ‘আততায়ী’, ১৯৭৪ সালের আলোচিত চরিত্র ছিল ‘স্মাগলার’। সেই সময় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কম্বোডিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভিয়েতনাম, ইরান—দূর-দূরান্তে ঘুরে রিপোর্ট করেছে বিচিত্রা। প্রতি বছর প্রকাশ করেছে ‘সজীব সচল বাংলাদেশের স্থির প্রতিকৃতি’ শিরোনামে বর্ষপঞ্জী। চিঠিপত্র, ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনও ছিল বিচিত্রার আলোচিত বিষয়; তসলিমা নাসরিন বিচিত্রায় চিঠি ও ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দিয়েই প্রথম পরিচিতি পেয়েছিলেন।

নিজস্ব পোশাক বা দেশীয় বুটিকশিল্প গড়ে তোলা ও বিকাশের উদ্যোগ নিলেন তিনি। আয়োজন করতে শুরু করলেন ঈদ ফ্যাশন প্রতিযোগিতা, যার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠল দেশীয় বুটিকশিল্প। নির্বাচিত পোশাক মডেলদের পরিয়ে, ছবি তুলে অ্যালবাম প্রকাশ করতে শুরু করল বিচিত্রা। বিচিত্রার অ্যালবাম দেখে পোশাক কিনতে শুরু করল মধ্যবিত্ত

তার দূরদর্শিতা ছিল অসাধারণ। তিনি দেখলেন, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাকের বাজার ভারতীয় পোশাকের দখলে। নিজস্ব পোশাক বা দেশীয় বুটিক শিল্প গড়ে তোলা ও বিকাশের উদ্যোগ নিলেন তিনি। আয়োজন করতে শুরু করলেন ঈদ ফ্যাশন প্রতিযোগিতা, যার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠল দেশীয় বুটিকশিল্প। নির্বাচিত পোশাক মডেলদের পরিয়ে, ছবি তুলে অ্যালবাম প্রকাশ করতে শুরু করল বিচিত্রা। বিচিত্রার অ্যালবাম দেখে পোশাক কিনতে শুরু করল মধ্যবিত্ত—তিনি গড়ে দিলেন মধ্যবিত্তের রুচি। সেকালে এখনকার মতো মডেল ছিল না, তিনি নিজের ও বন্ধু-পরিচিতজনের সন্তানদের মডেল হিসেবে ব্যবহার করতেন, বিশেষ করে নারী মডেল পাওয়া দুষ্কর ছিল। এই বাধা ডিঙাতেই তিনি উদ্যোগ নিলেন ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতার। চিত্র নায়িকা মৌসুমী-পপি থেকে মডেল মৌ-অপি করিমরা এই প্রতিযোগিতারই সুফল। মডেল-নায়িকা তৈরি তো বটেই, তার চেয়েও বড় উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক অচলায়তন ভেঙে নারীদের সামনে নিয়ে আসা; বহু প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে তিনি তা প্রতিষ্ঠা করে গেলেন।

সাহিত্যের জগতেও তার অবদান অবিস্মরণীয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাহিত্যনির্ভর পূজা সংখ্যা প্রকাশিত হতো। শাহাদত চৌধুরী উদ্যোগ নিলেন বিচিত্রার ঈদ সংখ্যা প্রকাশের, যা প্রকাশিত হতে থাকল বাংলাদেশের লেখকদের লেখায়। বাংলাদেশের লেখকদের লেখায় মোটা ঈদসংখ্যা প্রকাশিত হতে পারে, তার আগে এ কথা কেউ ভাবেননি। শুধু লেখা সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত হতেন না তিনি, লেখকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করতেন। এই আলোচনা থেকেই জন্ম হয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ লেখার। সৈয়দ শামসুল হকের ‘মার্জিনে মন্তব্য’ বইটির ধারণা তিনি পেয়েছিলেন শাহাদত চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা থেকেই। সৈয়দ হক লিখে গেছেন ‘আমার সম্পাদক’ শিরোনামে, বহু সম্পাদকের পত্রিকায় লিখলেও তিনি তার সম্পাদক মনে করতেন শাহাদত চৌধুরীকে। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের দিকনির্দেশনামূলক প্রবন্ধগুলো তিনি প্রকাশ করেছেন; সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘শাহাদতের কাছে ঋণী হয়ে আমরা ধনী হয়েছি।’ ফয়েজ আহমদের বিখ্যাত বই ‘মধ্যরাতের অশ্বারোহী’—এ বইটির নামটিও শাহাদত চৌধুরীর দেওয়া। সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’, শওকত আলীর ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছিল বিচিত্রার ঈদসংখ্যায়। হ‍ুমায়ূন আহমদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ ও মুহাম্মদ জাফর ইকবালের প্রথম সায়েন্স ফিকশন ‘কপোট্রনিক ভালোবাসা’-ও প্রকাশিত হয়েছিল বিচিত্রার ঈদসংখ্যায়।

নতুন ধ্যান-ধারণা ও ভাবনা-চিন্তা করাটা অনন্য নয়। অনন্য হল তার শনাক্তকরণ ও বাস্তবায়নের জন্য সুযোগ্য বাহক, কর্মী ও ধারকদের রীতিমতো অনুসন্ধান করে এনে আমাদের বাহিনী থেকে কাউকে না কাউকে সে কাজে ব্যাপ্ত করে নিরন্তর অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তার বা তাদের পাশে থাকা। এবং তারপরও ছোট ছোট জয়ের পর আরও ছোট ছোট গোলপোস্ট নির্মাণ করে চরম অভীষ্টের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন স্বাধীন দেশ বিনির্মাণে স্বপ্নবান, সৎ-দক্ষ সংগঠক প্রয়োজন, আর সেই দক্ষ সংগঠকদের তিনি সন্ধান করেছেন নিরলসভাবে। ১৯৭৪ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে নিয়ে বিচিত্রার প্রচ্ছদ করলেন ‘একটি স্বপ্ন একটি প্রকল্প’ শিরোনামে। ‘মাটি ও মানুষ’খ্যাত তরুণ শাইখ সিরাজকে তিনি প্রচ্ছদে তুলে ধরলেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্যার ফজলে হাসান আবেদের সুখ্যাতি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ার আগেই বারবার তিনি তাদের বিচিত্রার প্রচ্ছদে এনেছেন। ১৯৮২ সালের যে ‘ওষুধ নীতি’ দেশীয় ওষুধশিল্পের বিকাশের পথ তৈরি করে, তার কৃতিত্বের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী; সেই সময় ডা. জাফরুল্লাহর পাশে থেকে, সঙ্গে থেকে সর্বতোভাবে সহায়তা করেছে বিচিত্রা ও শাহাদত চৌধুরী।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠনের অন্যতম রূপকারও ছিলেন তিনি। জাহানারা ইমাম যে সবার ‘আম্মা’ হয়ে উঠলেন, সেটাও তার কারণেই। বিচিত্রার সাংবাদিকরাই প্রথম সরেজমিন ঘুরে ঘুরে যুদ্ধাপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যা পরবর্তীকালে বিচারের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-আলামত হিসেবে কাজে লাগে। সাত বীরশ্রেষ্ঠের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ, শিল্পী সমন্বয়ে অঙ্কন ও প্রকাশ—এ কাজেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, সহায়তা করেছিলেন প্রয়াত মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার নেপথ্যের অন্যতম কারিগরও এই শাহাদত চৌধুরী।

তার শিল্পীসত্তা ও সৃজনশীলতা সাংবাদিকতার প্রতিটি পরতে মিশে ছিল। তিনি নিজে জাতীয় দৈনিকে গল্প লিখেছেন, গল্পের ইলাস্ট্রেশন করেছেন। কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানার ছয়-সাতটি বই তার লেখা, অনেকগুলোর প্রচ্ছদ তিনি নিজে এঁকেছেন। ছবির কোলাজে বাংলাদেশে প্রচ্ছদের ধারণা তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন, আর বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের রাজপুত্র ধ্রুব এষ করেছেন তার ভূয়সী প্রশংসা। এমনকি সাংবাদিকতায় এক তরুণের শক্তিটা কোন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে কার্যকর হতে পারে, তা-ও তিনি শনাক্ত করে দিতেন। তিনি বুঝেছিলেন, কাকে দিয়ে দেশের শাড়ি-পোশাক-বুনন-নকশাকার-কারুকার ও তাদের অবস্থান নিয়ে সামগ্রিকভাবে বাঙালির লাইফস্টাইল নিয়ে কাজ করানো যায়; আর সেই কাজ বাংলাদেশের মানুষ মনে রেখেছে।

ব্যক্তি শাহাদত চৌধুরীর চরিত্রের ঔজ্জ্বল্য ধরা পড়ে শামীম আজাদ বর্ণিত কিছু নিভৃত মুহূর্তে। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার বিচিত্রা বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যাওয়ার দু-তিন দিন আগের ঘটনা। সকালে অফিসে ঢুকতেই নিজস্ব ভঙ্গির হাতের ইশারায় ডাকলেন। রুমে ঢুকে বসলে বিশ্বস্ত মনির ছেঁড়ার জন্য নিউজপ্রিন্টের প্যাড টেবিলে রেখে গেলেন। নিজে চেয়ার থেকে উঠে রুমের দরজা বন্ধ করলেন তিনি। টেবিলে রাখা একটি কাঁচি হাতে দিয়ে ড্রয়ার থেকে বের করলেন অনেকগুলো ছবি ও ফিল্ম। বললেন, এগুলো টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলো। ছবিগুলো বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নায়িকা ও একজন সংগীতশিল্পীর। প্রশ্ন করা হলো, ছবিগুলো নষ্ট না করে রেখে দেওয়া যায় না? তিনি তাকিয়ে বললেন, ‘জীবনে বিশ্বস্ততার মূল্য রাখবে। তারা বিশ্বাস করে এই ছবিগুলো আমাকে তুলতে দিয়েছিলেন, প্রকাশ করার জন্য নয়। এই ছবিগুলো অন্য কারও হাতে পড়ুক, তা চাই না। কেটে ফেলো।’ বিশ্বাস আর বিশ্বস্ততার এই দীক্ষা তিনি দিয়ে গেলেন নিঃশব্দে।

তিনি বললেন, ‘না, নিও না। বইগুলো নিতে চাই না। এরপরে যারা আসবেন, তারা এসে দেখবেন আমরা কীভাবে ছিলাম!’ যে পত্রিকা ধারণ করত ‘সংস্কারমুক্ত না হলে বিচিত্রা পড়বেন না’—এমন সাহসী স্লোগান, তার সম্পাদকের এই দৃপ্ত উচ্চারণই বলে দেয় তিনি কেমন ছিলেন

আরেকটি ঘটনা জানা যায় শামীম আজাদের বর্ণনা থেকে। বিচিত্রার খুব সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি ছিল, এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে শুরু করে পৃথিবীর বহু গুরুত্বপূর্ণ বই ছিল তার সংগ্রহে। পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের দিন কেউ বলল, শাহাদত ভাই, কিছু বই নিয়ে যেতে চাই। তিনি বললেন, ‘না, নিও না। বইগুলো নিতে চাই না। এরপরে যারা আসবেন, তারা এসে দেখবেন আমরা কীভাবে ছিলাম!’ যে পত্রিকা ধারণ করত ‘সংস্কারমুক্ত না হলে বিচিত্রা পড়বেন না’—এমন সাহসী স্লোগান, তার সম্পাদকের এই দৃপ্ত উচ্চারণই বলে দেয় তিনি কেমন ছিলেন। ১৯৯৭ সালে বিচিত্রা বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি থেমে যাননি; ১৯৯৮ সালে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘সাপ্তাহিক ২০০০’ এবং পাক্ষিক ‘আনন্দধারা’। সাংবাদিকতায় তার সেই মুক্তিযুদ্ধ চলল অনবরত।

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি চলে গেলেন। কিন্তু রেখে গেলেন স্বাধীন বাংলাদেশের একটি প্রজন্মের চিন্তারজগৎ বদলে দেওয়ার অহংকার। মধ্যবিত্তের রুচিবোধ ও সাংস্কৃতিক জাগরণে, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যাওয়া এক সম্পাদক, এক মুক্তিযোদ্ধা, এক কিংবদন্তি—যার জন্মদিনে আমরা নমিত হই বারবার, যার অবদানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা চিরঋণী।

ঋণস্বীকার : ১. হাবিবুল আলম বীরপ্রতীকের বই ‘ব্রেভ অব হার্ট’, ২. শামীম আজাদের স্মৃতিচারণ করে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট, ৩. গোলাম মোর্তজার ডেইলি স্টারে প্রকাশিত লেখা।

শাহাদত চৌধুরীসাংবাদিকমুক্তিযোদ্ধাশিমুল সালাহ্উদ্দিন
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    রপ্তানির ৮ হাজার কোটি উধাও অনুসন্ধানে ৪ সংস্থা

    রপ্তানির ৮ হাজার কোটি উধাও অনুসন্ধানে ৪ সংস্থা

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৭

    পিপলস রিপাবলিক অব ককরোচিয়া

    পিপলস রিপাবলিক অব ককরোচিয়া

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০৫

    শ্রীপুরে ১৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার মাদক মামলার আসামি

    শ্রীপুরে ১৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার মাদক মামলার আসামি

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০

    ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কমিটি, আহ্বায়ক জাবের ও সদস্যসচিব জুমা

    ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কমিটি, আহ্বায়ক জাবের ও সদস্যসচিব জুমা

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০০:৫৬

    মশা মারতে দুই সিটির কামানে ‘নতুন গোলা’

    মশা মারতে দুই সিটির কামানে ‘নতুন গোলা’

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২

    স্ত্রী ঋতিকার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ অনুরাগের

    স্ত্রী ঋতিকার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ অনুরাগের

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬

    শিক্ষকের পেনশনের টাকায় ‘শিশুস্বর্গ’

    শিক্ষকের পেনশনের টাকায় ‘শিশুস্বর্গ’

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮

    দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, ঝড় হতে পারে ৯ অঞ্চলে

    দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, ঝড় হতে পারে ৯ অঞ্চলে

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১

    তিন কারণে সাহাবুদ্দিনকে সুরক্ষা দেবে বিএনপি

    তিন কারণে সাহাবুদ্দিনকে সুরক্ষা দেবে বিএনপি

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪

    আওয়ামী লীগের পুরনো ভিডিওকে সাম্প্রতিক বলে প্রচার

    আওয়ামী লীগের পুরনো ভিডিওকে সাম্প্রতিক বলে প্রচার

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭

    আজকের নামাজের সময়সূচি (২৮ জুলাই)

    আজকের নামাজের সময়সূচি (২৮ জুলাই)

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৬

    কর্মজীবী নারীর পোশাকে নতুন ঢং

    কর্মজীবী নারীর পোশাকে নতুন ঢং

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪

    যৌন হয়রানির প্রতিবাদে খুবিতে মশাল প্রজ্বলন

    যৌন হয়রানির প্রতিবাদে খুবিতে মশাল প্রজ্বলন

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮

    পরিবারে চাই গল্পের আসর

    পরিবারে চাই গল্পের আসর

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪

    ৩৬ কর্মী নেবে চা বোর্ড, আজ থেকে শুরু আবেদন

    ৩৬ কর্মী নেবে চা বোর্ড, আজ থেকে শুরু আবেদন

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭

    advertiseadvertise