আবারও ব্যর্থ ক্রুইফকে আনছে বাফুফে!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আবারও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পছন্দ লডউইক ডি ক্রুইফ! যার বাংলাদেশ অধ্যায়ে ১৬ ম্যাচে আছে মাত্র দুটি জয়। যিনি একটি রেস্টুরেন্ট চালানোর পাশাপাশি অ্যামেচার ক্লাব দলকে কোচিং করান, সেই ক্রুইফকে আবারও আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের জন্য।
বাফুফের এই কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরও একবার হুজুগ উঠেছিল ক্রুইফকে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদে বসানোর জন্য। সে যাত্রায় সফল হয়নি, তবে এবার ডেভেলপমেন্ট কমিটি উঠে পড়ে লেগেছে এই ডাচ কোচকে আনার জন্য। তবে কোচ নিয়োগের দায়িত্ব টেকনিক্যাল কমিটির, এর প্রধান কামরুল ইসলাম হিলটন কোচ নিয়োগ ইস্যুতে বলেছেন, ‘ক্রুইফের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, আমার সঙ্গে এ নিয়ে কেউ আলোচনা করেনি।’
তবে ৫৫ বছর বয়সী এই কোচ নিয়ে আলোচনা হয়েছে ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভায়। কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদীকে বারবার ফোন করে পাওয়া না গেলেও সদস্য ছাইদ হাছান কানন আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, ‘ক্রুইফের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। দুই মাসের জন্য তাকে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ যদিও বাফুফে সূত্র বলছে, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্রুইফের ঢাকা আসার কথা। তাকে আনার উদ্দেশ্য ৮ নভেম্বর থেকে আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের বাছাইপর্ব। বাংলাদেশ খেলবে সিরিয়া, ভুটান, ম্যাকাও ও স্বাগতিক আরব আমিরাতের সঙ্গে।
প্রশ্ন হচ্ছে, ক্রুইফ কি পারবেন বাংলাদেশকে মূল পর্বে নিয়ে যেতে? বাংলাদেশ ফুটবলে তার অতীত রেকর্ড কিন্তু ইতিবাচক বার্তা দেয় না। ২০১৩ কাঠমান্ডু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল বাংলাদেশের এবং একই সঙ্গে এই ডাচ কোচের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট। সঙ্গে ছিলেন তার সহকারী রেনে কোস্টার। ওই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ট্রেনিংয়ের জন্য দুই কোচের চাওয়া অনুযায়ী সবই দিয়েছিল বাফুফে। এমনকি বাইরের গোলরক্ষক কোচ, ফিজিও এবং অন্যান্য সহযোগিতা— কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। বলতে পারেন, গত তিন দশকে কোনো টুর্নামেন্ট ঘিরে সেটা ছিল বাফুফের সর্বোচ্চ আয়োজন। কিন্তু গ্রুপে একটি ম্যাচও না জিতে সেবার সাফ থেকে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বিদায় নিতে হয়েছিল কোচকে।
পরে ২০১৫ সালে ক্রুইফকে আবার ফেরায় বাফুফে আরও বড় মিশনের জন্য। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে যথারীতি যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের কারণে চাকরি খোয়াতে হয়েছিল। এই ব্যর্থ কোচকে তৃতীয়বারের মতো ফেরানো হয় ২০১৬ সালে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার্সের প্লে-অফ ম্যাচের জন্য। কিন্তু হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে তাজিকিস্তানের কাছে সামগ্রিকভাবে ৬-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ এবং ব্যর্থতার দায় নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যান ডাচ কোচ।
তিন দফায় ক্রুইফের বাংলাদেশ অধ্যায়ে ১৬ ম্যাচে আছে মাত্র দুটি জয়। এ ছাড়া ৯ হার ও ৫ ড্র। এমন এক ব্যর্থ কোচকে বারবার এনে দেশের ফুটবল ভরাডুবির পরম্পরা দীর্ঘ করতে দেখে অনেকের মনে তখন সন্দেহ হয়েছিল। ক্রুইফের সঙ্গে কোনো বাফুফে কর্তার কমিশনের কারবার নেই তো! তখন কোচ নিয়োগের জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী নাবিল আহমেদ আর সেই কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন এখনকার বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
এরপর অন্তত ১০ বছর ক্রুইফ-মুক্ত ছিল দেশের ফুটবল। এখন আবার তাকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাইছে বাফুফে। অথচ গত ১০ বছরে তিনি কোনো জাতীয় দল বা পেশাদার লিগে কাজ করেননি। এত ভালো ফুটবল কোচিং করালে নিশ্চয়ই ভালো জায়গায় থাকতেন ৫৫ বছর বয়সী এই কোচ। এখন ভিভি লুন্তেরেন ক্লাবে অ্যামচার দলের কোচ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ওই শহরে একটি রেস্টুরেন্ট চালান। এই হলো তার পেশা। সব জেনে বুঝেই বাফুফে কেন আবার তাকে ডাকছে, তা এক রহস্য বটে।
ওদিকে বাংলাদেশের ডাক শুনে ক্রুইফের কণ্ঠেও ফেরার ইঙ্গিত। আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এটা দারুণ সুযোগ। আমি বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ ফুটবলের উন্নতি দেখে খুব খুশি।’ তার জন্য খুশিরই ব্যাপার। অদক্ষ, ব্যর্থদের আলিঙ্গনে যে জুড়ি নেই বাংলাদেশ ফুটবলের!



