লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)। গতকাল শুক্রবার ইউএসএফের বসন্তকালীন সমাবর্তনে দেওয়া হয় এ সম্মাননা। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
এ বছর ২৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে। তাদের মধ্যে ছিলেন নাহিদা ও জামিল। তবে অন্যদের মতো মঞ্চে উঠে নিতে পারেননি তাদের ডিগ্রি। মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে জামিল ও বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় তাদের জন্য। সবুজ, কালো ও সোনালি রঙের রাজকীয় পোশাক রেগালা সজ্জিত দুটি খালি চেয়ার রাখা হয় তাদের জন্য।
জামিল ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছিলেন বৃষ্টি। তার লক্ষ্য ছিল ইলেকট্রোকেমিক্যাল প্রসেস নিয়ে উন্নততর গবেষণা, বলছিলেন বৃষ্টির প্রফেসর ডক্টর বিনয় গুপ্ত। তার ভাষায়, বৃষ্টি হতে চেয়েছিলেন চেঞ্জমেকার। তার অর্জিত শিক্ষা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে চাইতেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ২৭ বছর বয়সী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এর এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার টাম্পায় হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় জামিলের দেহাবশেষ। এর দুদিন পর একই এলাকার ম্যানগ্রোভ বনের ভেতরে পাওয়া যায় বৃষ্টির দেহাবশেষ।
এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে সে কারাগারে। গতকাল শুক্রবার স্টেট অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হবে।







