কোন দেশ কীভাবে সামলাচ্ছে জ্বালানি সংকট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের অভিঘাত এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের উঠানে আটকে নেই। এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, এলএনজির দাম উঠেছে দ্বিগুণের বেশি। বাড়তি দাম দিয়েও অনেক দেশ সময়মতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না। সংকট সামাল দিতে কোথাও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কোথাও ভর্তুকির বোঝা বাড়ছে, আবার কোথাও জ্বালানি রেশনিংয়ের পথে গেছে সরকার।
তবে এ সংকটের গল্প সবার জন্য এক নয়। কোনো দেশ যেখানে জ্বালানি সংকটে হিমশিম খাচ্ছে, অনেকেই সেখানে বাড়তি দামের সুবিধা নিয়ে বিপুল আয় করছে। আবার কেউ কেউ যুদ্ধের আগেই যে মজুদ, বিকল্প আমদানির পথ ও সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করে সুফল পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংকট মোকাবিলায় একটি দেশের আর্থিক সামর্থ্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আগাম প্রস্তুতি, জ্বালানির উৎসের বৈচিত্র্য এবং কৌশলগত মজুদ। যেসব দেশ আগে থেকেই বিকল্প উৎস ও মজুদ নিশ্চিত করেছিল, তারা তুলনামূলক
কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপরীতে, একক উৎস বা আমদানিনির্ভর দেশগুলো পড়েছে সবচেয়ে বড় চাপে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আগাম প্রস্তুতিতে এগিয়ে চীন-জাপান: এ সংকটে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা দেশগুলোর অন্যতম চীন। এক দশকের বেশি সময় ধরে ইরান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলা থেকে ছাড়কৃত দামে তেল কিনে বড় মজুদ গড়ে তুলেছে দেশটি। একই সঙ্গে প্রায় ৫০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে সরবরাহের উৎসও বহুমুখী করেছে।
সমুদ্রপথে সরবরাহ ব্যাহত হলেও চীনের তিনটি স্থলপথ পাইপলাইন করিডর বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। কয়লা ও দ্রুত সম্প্রসারিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও দেশটির গ্যাসনির্ভরতা কমিয়ে রেখেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও চীনের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে তুলনামূলক কম চাপ পড়েছে। উল্টো সংকটটি চীনের সৌর ও ব্যাটারি প্রযুক্তি রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি করেছে।
জাপানের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি এখন কাজে লাগছে। দেশটির মোট জ্বালানি সরবরাহের ৮৭ শতাংশ আমদানিনির্ভর হলেও বিশাল কৌশলগত মজুদ রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের মাঝামাঝি জাপান রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ে, যা প্রায় ৪৫ দিনের চাহিদার সমান।
দেশটির মোট তেল মজুদ প্রায় ৪৭ কোটি ব্যারেল—জাতীয় চাহিদার প্রায় ২৫৪ দিনের সমান। পাশাপাশি তিন সপ্তাহের এলএনজি মজুদ রয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালু করার উদ্যোগ এবং রুশ এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড় নবায়নও জ্বালানি নিরাপত্তায় জাপানকে কিছুটা সুবিধা দিয়েছে।
বিকল্প পথ তৈরি করেই সুবিধায় আফগানিস্তান: আফগানিস্তানের চিত্রটি আরও ভিন্ন। ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হলেও দেশটি আগে থেকেই তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান ও রাশিয়া থেকে বিকল্প আমদানির পথ তৈরি করেছিল। ফলে সাময়িক চাপের পর দেশটির জ্বালানির দাম বরং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।



