আর একক প্রকল্প নয়
ঢাকার ৫ নদী বাঁচাতে নেওয়া হচ্ছে সমন্বিত উদ্যোগ
- বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু, শীতলক্ষ্যার দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ফিরবে শৃঙ্খলা
- চলমান ও নতুন প্রকল্প সমন্বয় করে আসছে ঢাকা সারফেস ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট আমব্রেলা প্রোগ্রাম
- দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হবে
- অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক-এডিবিসহ অনেক সংস্থা : সচিব, ইআরডি

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর চারপাশের পাঁচ নদী বাঁচাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর ফলে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু এবং শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ফরবে শৃঙ্খলা। ঢাকা সারফেস ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট আমব্রেলা প্রোগ্রামে এ বিষয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর চলমান ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সবুজ পাতায় প্রস্তাবিত এবং প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষমান প্রকল্পসমূহের সার্বিক পর্যালোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে নাজিয়া-সালমা সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার রেকর্ড অব নোটস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভার সভাপতি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের চারপাশে নদ-নদীর পানি শিল্প বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য বর্জ্যের মাধ্যমে দূষিত হচ্ছে। ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক আধুনিকায়ন এবং খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণে একক বা খণ্ডিত প্রকল্পের পরিবর্তে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা জরুরি। এ জন্য ঢাকা সারফেস ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট আমব্রেলা প্রোগ্রাম নামক একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ঢাকা সারফেস ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট আমব্রেলা প্রোগ্রামের (UIP) আওতায় ৪টি সাব-প্রোগ্রামে ভাগ করা হয়েছে। এই সাব-প্রোগ্রামভুক্ত চলমান, সবুজ পাতা ও বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোকে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া বলেন, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ঢাকা শহরে অবস্থিত নদীগুলো দূষিত হচ্ছে ও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কলকারখানা ও ভবন নির্মাণের জন্যও নদীগুলো দূষিত হচ্ছে। এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত চলমান ও সবুজ পাতার প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ঢাকা শহরের হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্কাশন করে পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্বব্যাংক একটি বেইজ লাইন সার্ভে করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এ কাজে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আকতার জানান, 'ঢাকা সারফেস ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট আমব্রেলা প্রোগ্রাম'র আওতায় ৪টি সাব-প্রোগ্রামের আওতায় সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সভায় অংশ নেওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রতিনিধিরা জানান, ঢাকার আশেপাশের নদীগুলো কোন কোন পয়েন্ট থেকে দূষণ হয় তা চিহ্নিত করা আছে। সেখানে এসব দূষণ রোধে কোন কোন এলাকায় কাজ করা প্রয়োজন তাও চিহ্নিত করা আছে। সে আলোকে কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।
সভায় তিন সিদ্ধান্ত: সভা থেকে তিনটি বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হলো- সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ক্লাস্টারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গৃহীত ব্যবস্থা টেকসইকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।



