চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ জরুরি : জিয়াউদ্দিন হায়দার

ছবি: আগামীর সময়
সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিনির্ভরতা কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেছেন, চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যান। এতে দেশ থেকে প্রতিবছর ৬ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ইমপ্রুভিং পেশেন্ট আউটকামস অ্যাট স্কেল-আপ থ্রু পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট কোলাবরেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব চাহিদার চেয়ে বেশি ওষুধ উৎপাদন করছে। তবে চিকিৎসায় ব্যবহৃত অধিকাংশ যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হয়। এ নির্ভরতা কমাতে হবে। এ লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা গেলে স্বাস্থ্য খাত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
সেমিনারে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসায় আঞ্চলিক বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে কারও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) যে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব, বরিশালের কোনো রোগীর ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করা যায় না। অথচ ৯০ থেকে ১২০ মিনিটের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুততম সময়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, উচ্চ ব্যয় ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত। মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসংগতিগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা প্রয়োজন।
মেডট্রনিক বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠি বলেন, সারা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার চাপ মূলত ঢাকাকে বহন করতে হয়। এমনকি চট্টগ্রামেও রাতে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে। পাশাপাশি মানুষ সহজে চিকিৎসা পাবে এবং চিকিৎসার খরচও কমবে।
স্কয়ার হাসপাতালের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলতান মিনহাজ উদ্দিন জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। তবে শুধু সেবার পরিধি বাড়ালেই চলবে না, এর মান নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারের প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বেক্টন ডিকিনসনের কান্ট্রি বিজনেস লিডার মির্জা সজীব রায়হান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহজলভ্যতা বাড়াতে বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তারা। সেমিনারের শেষ পর্যায়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।



