নতুন এডিপিতে বিপরীত চিত্র
প্রকল্প কমে দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১২১টিতে
- চলতি অর্থবছরের এডিপিতে ছিল ১ হাজার ১৭৩টি
- তুলনামূলক কমছে ৫২টি প্রকল্প
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি বর্ধিত সভায় উঠছে আজ শনিবার বিকালে

সংগৃহীত ছবি
বিপরীত চিত্র দেখা যাবে আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। প্রতিবছর প্রকল্পের সংখ্যা বাড়লেও এবার কমছে সেটি। বরাদ্দসহ প্রকল্প থাকছে ১ হাজার ১২১টি, যা চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে ছিল ১ হাজার ১৭৩টি। তুলনামূলক প্রকল্প কমেছে ৫২টি। এর নেপথ্যের কারণ হিসেবে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতির। অর্থাৎ অতিমাত্রায় যাচাই-বাছাইয়ে চলমান কিছু প্রকল্প বাতিল এবং গতি কমেছে নতুন প্রকল্প নেওয়ার। আজ শনিবার বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় উঠছে নতুন এডিপির খসড়া। এরপরই সেটি যাবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে হতে যাওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পের সংখ্যা কমলেও বাড়ছে বরাদ্দ। এ ক্ষেত্রে থোক হিসেবে বেশি বরাদ্দ প্রস্তাব করা হবে এনইসি বৈঠকে। তবে প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেই বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফার সঙ্গে সমন্বয় হলেই কেবল যুক্ত করা হয়েছে সেসব প্রকল্প। এ বিষয়ে বেশ কঠোরতা অবলম্বন করা হয়। সুযোগ দেওয়া হয়নি যেনতেন প্রকল্প নেওয়ার। অন্য অর্থবছর নির্বাচিত সরকার থাকলে প্রকল্পের হিড়িক থাকে। এবার ঘটছে তার ব্যতিক্রম।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে ১৫টি খাতে বরাদ্দসহ মোট প্রকল্প থাকছে ১ হাজার ১২১টি। এর মধ্যে সরকারের বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, সাম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প ২২টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প থাকবে ৪৩টি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে বিনিয়োগ, কারিগরি সহায়তা এবং সমীক্ষা মিলে মোট প্রকল্প ছিল ১ হাজার ১১৩টি। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের নিজস্ব তহবিলের ৬০টিসহ মোট প্রকল্প ১ হাজার ১৭৩টি।
আগামী অর্থবছরের যেসব প্রকল্প থাকছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং প্রোগ্রাম অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন প্রজেক্ট। এ ছাড়া যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১, নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন-গবেষণা-আধুনিকায়ন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এলাকার জন্য স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রকল্প এবং ১০টি মেডিকেল কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধার ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্প।




