রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, গ্যাস না পেয়ে বিপাকে চালকরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় পাম্পগুলোতে যানবাহন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিএনজি ও প্রাইভেটকারচালকরা।
আজ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার ‘কানাডা-বাংলা সিএনজি ফিলিং স্টেশন’-এ যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকে রাজধানীর বেশ কিছু সিএনজি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। যে কয়েকটি চালু রয়েছে, সেগুলোতে দেখা যাচ্ছে গ্যাসচালিত পরিবহনের দীর্ঘ সারি।
এদিকে, লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। সিএনজিচালক মো. সাগর জানালেন, তিনি তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাননি। সকাল ৬টায় গাড়ি বের করার কথা থাকলেও পাম্পে গ্যাস না থাকায় গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিতেই সকাল ৮টা বেজে যায়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, ‘এ পর্যন্ত মাত্র ৭০০ টাকা ভাড়া পাইছি, কিন্তু মালিককে জমা দিতে হবে এক হাজার টাকা। মালিককে ফোন করে বলার পর জানাল গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর জমা দিলেও হবে। কিন্তু গ্যাস না থাকলে বাড়তি সময় গাড়ি চালিয়েও তো লাভ নেই।’
আরেক চালক রহিম শেখ জানালেন, সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৮৬ টাকার গ্যাস পেয়েছেন তিনি। মো. জালাল নামের আরেক চালক জানালেন, সকালে মহাখালীর একটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২ টাকার এবং পরিবাগের একটি পাম্পে ১৭ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। দিনে মাত্র দুটি ট্রিপ মেরে ৩৫০ টাকা আয় করলেও মালিকের পাওনা ১,২০০ টাকা কীভাবে দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
চালকদের অভিযোগ—দীর্ঘ লাইনের সুযোগ নিয়ে অসাধু উপায়ে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু চালক স্টেশনের কর্মচারীদের ২০ থেকে ৫০ টাকা বকশিশ দিয়ে লাইন ছাড়াই আগে গ্যাস নিয়ে নিচ্ছেন। এতে লাইনে থাকা চালকদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। তবে গ্যাস না পাওয়ার ভয়ে অনেকেই এর প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা বকশিশ নেওয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গ্যাস সংকটের মূল কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কানাডা-বাংলা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করা প্রকৌশলী মো. নজরুল জানালেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণে ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে মূল সরবরাহ লাইনে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং গ্যাস না থাকলে যেকোনো মুহূর্তে তাদের স্টেশনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।






