১০ বছরে নিবন্ধন মাত্র ৫০ লাখ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সন্দেহভাজন ভাড়াটিয়া— অনৈতিক কর্মকাণ্ড, এমনকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও আত্মগোপনে থাকেন বাসা ভাড়া করে। এমন নানা অপকর্মের খোঁজ রাখতে, তথা নগরীর নিরাপত্তায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ২০১৬ সালে চালু করে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)।
ঘনবসতিপূর্ণ এই নগরীতে প্রতিনিয়ত বাসাবাড়িতে নানা অপরাধ ঘটলেও ডিএমপির এই সেবায় অনীহা অনেকের। বারবার প্রচারে তেমন সাড়া মিলছে না। নগরীর ৫০ লাখ মানুষ সিটিজেন সেবায় তালিকাভুক্ত থাকলেও ৮৪ শতাংশ মানুষ এই সেবা থেকে দূরে।
সম্প্রতি ডিএমপির রামপুরা থানার পুলিশ সদস্যরা সিটিজেন সেবা উপলক্ষে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য ডেটাবেজে যুক্ত করার জন্য সরাসরি এলাকায় গিয়ে ফরম বিলি এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিশেষ র্যালি করেন। এক সপ্তাহের এমন প্রচার-প্রচারণায় চার হাজার ফরম বিলি করে থানা-পুলিশ। কিন্তু এই ৪ হাজারের বিপরীতে ৮০০ ফরমের সাড়া মিলেছে বলে আগামীর সময়কে জানায় রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন।
ডিএমপি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ওসমান গণি আগামীর সময়কে বললেন, বছরের বিভিন্ন সময় থানাভিত্তিক এলাকাগুলোয় সিটিজেন সেবার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা করা হয়। বর্তমানে এই সেবায় যুক্ত রয়েছে ৫০ লাখ মানুষ। নগরীর সব মানুষ সিটিজেন সেবায় যুক্ত থাকলে অপরাধ কর্মকাণ্ড শূন্যে নেমে আসবে বলে আশা এই কর্মকর্তার। তার মতে, সিটিজেন সেবায় শহরের সব মানুষের তথ্য থাকলে বিট পুলিশ খুব সহজেই বাসাবাড়ির খবরা-খবর রাখতে পারবে। যেকোনো অপরাধে দ্রুত তদন্ত করা যাবে। ভাড়াটিয়া কেমন বা বাসায় অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া যাবে।
মোবাইল অ্যাপ চালু ও নগরবাসীর অনীহা
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে রমনা থানা থেকে সিআইএমএসের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। ২০১৭ সালে এটি রাজধানীর সব থানায় সম্প্রসারিত হয় এবং ২০১৯ সালে নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে চালু করা হয় সিআইএমএস মোবাইল অ্যাপ।
সিটিজেন ফরমে ভবন বা বাড়ির ঠিকানা, ছবি, নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জরুরি যোগাযোগের নাম ও মোবাইল নম্বর, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, গৃহকর্মীর নাম-পরিচয়পত্র, ড্রাইভারের নাম-পরিচয়পত্র এবং পূর্ববর্তী বাসার ঠিকানা ও পরিচয়পত্রসহ স্বাক্ষর থানায় জমা দিতে হয়। ডিএমপির প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে সিআইএমএস নিবন্ধন ফরম পাওয়া যায়। মোবাইল অ্যাপটি ডাউনলোড করতে প্লেস্টোরে গিয়ে CIMS DM লিখতে হয়।
অনেকেই বলছেন, থানা-পুলিশের কাছে এত তথ্য দিয়ে নিজেই বিপদে পড়তে পারেন। আবার অনেকে বলছেন, এই উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। বাড়িওয়ালা যদি এই ফরম নিবন্ধনে বাধ্য করে, তাহলে ভাড়াটিয়ারা ফরম পূরণ করতে বাধ্য হবেন। পুলিশের ডেটাবেজে পরিবারের সদস্যের পাশাপাশি গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের পরিচয় উল্লেখ করলে তারাও অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবেন।
বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সুবিধা
সিআইএমএসে নিবন্ধনের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন। ফলে অপরাধী বা প্রতারকদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং বাড়িওয়ালাও অযথা হয়রানির ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকেন। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়ারা সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান, প্রয়োজনে দ্রুত আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন এবং পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও সুবিধা লাভ করেন।





