ড. মাসরুর রিয়াজ
আওয়ামী শাসনে ‘মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা চুরি’, ভেঙে পড়েছিল অর্থনীতির ভিত্তি
- রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতিতে টেকসই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত, জনবান্ধব বাজেটের আহ্বান

ছবি: আগামীর সময়
গত এক যুগে আওয়ামী সরকারের ভুলনীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ।
তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে প্রতিটি প্রকল্পই ছিল অতিমূল্যায়িত। মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা চুরি হয়েছে। এমনকি ছোট ছোট প্রকল্পের দুর্নীতিও অনেক ক্ষেত্রে মেগা প্রকল্পের দুর্নীতিকে ছাড়িয়ে গেছে।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলাই আসন্ন বাজেট প্রণয়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ড. মাসরুর রিয়াজ জানান, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের অভাবে দেশে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়মের কারণে অর্থনীতির চাকা শ্লথ হয়ে পড়ে। বেসরকারি বিনিয়োগ, রপ্তানি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং অন্যান্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
‘বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে যদি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ঋণের বোঝাও বাড়াবে না,’ যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতি এখন আইসিইউতে। পরিস্থিতি উত্তরণে আসন্ন বাজেট হতে হবে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও বাস্তবায়নযোগ্য।’
তার ভাষ্য, বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকতে হবে এবং প্রতিটি বাজেটে উন্নয়ন দর্শন ও নীতিগত দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
কিরণ আরও জানান, সততা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ঢালাওভাবে জব্দ হওয়া ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া উচিত। বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে এবং দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ভর্তুকি হতে হবে লক্ষ্যভিত্তিক। কৃষি, সেচ, সার, গণপরিবহন, এসএমই খাত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ভর্তুকিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা। তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করেছেন।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিক জিয়াউল হক সবুজ, উম্মান নাহার আজমী, মাসুম মিয়া, আতিকুর রহমান এবং মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।




