‘তালাকের কথা শুনেই’ স্ত্রীসহ শাশুড়িকে হত্যা
- দুজনের শরীরেই ১০ থেকে ১২টি জখম
- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর কলাবাগানে নৃশংসভাবে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক জামাতা শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে, স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রী (২০) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমের (৩৯) শরীরে ১০ থেকে ১২টি ছুরির জখমের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কথা-কাটাকাটি বা ঝগড়া থেকে এই খুন করা হয়েছে, না কি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড— খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও পারিবারিক সূত্র বলছে, সাধারণত এমন হত্যাকাণ্ডে পরকীয়া বা সন্দেহের বিষয় সামনে এলেও এ ঘটনায় এমন কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। তবে একমাত্র মেয়ের প্রেমের বিয়ে মানতেন না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিয়ের পর ফারজানা ও শিপনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। কেউ কাউকে কথায় ছাড় দিতেন না। স্ত্রী মনে করতেন তার কথাই ঠিক, আবার স্বামীও মনে করতেন তার কথাই ঠিক এবং স্ত্রী তাকে যথাযথ সম্মান করেন না। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। আর এই বিরোধ ও ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা।
ফারজানা ও শিপনের সংসারে এক বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। ছেলেটির মা ও নানি দুজনই নেই। শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে মেয়ে ও স্ত্রীর দাফন শেষে নাতিকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন ফারুক হোসেন। পেশায় একজন ফল বিক্রেতা তিনি।
আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘একমাত্র মেয়ে ও স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। শিপন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকত। সংসারে শান্তি না থাকায় তালাকের কথা বলছিল। তালাকের কথা বললেই তো তালাক হয়ে যায় না। তাই বলে নৃশংসভাবে এভাবে খুন করবে।’
শিপনকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিকের কাছে। আগামীর সময়কে তিনি বলছিলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে করা হত্যা মামলায় জামাতা শিপনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যতটুকু শুনেছি, ঘটনার আগেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিলে শিপন দুজনকেই ছুরি মেরে হত্যা করে। শোনা যাচ্ছে, শিপন ছুরি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকেছিল। বিষয়টি তদন্তাধীন। এটি প্রমাণিত হলে, হত্যার পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত হবে।’
কলাবাগান থানার এসআই লিজা আক্তার দুটি লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। সুরতহালে উল্লেখ করা হয়, দুটি লাশের মুখমণ্ডল, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আনুমানিক ১০ থেকে ১২টি ছুরির জখম দেখা গেছে।
জানা গেছে, পিকআপচালক শিপন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন মোহাম্মদপুর এলাকায়। তার শ্বশুরবাড়ি কাঁঠালবাগান আল-আমিন মসজিদ রোডের একটি বাড়ির পঞ্চমতলায়। শিপনের আয়-রোজগার কম থাকায় বিভিন্ন সাংসারিক বিষয় নিয়ে কলহ লেগেই থাকত। মোহাম্মাদপুরে বাসা থাকলেও ফারজানা প্রায়ই কাঁঠালবাগানের বাসায় থাকতেন। গত শনিবার রাতেও বাপের বাড়িতে ছিলেন।
গ্রেপ্তার শিপনের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে, শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিয়ে জামাইকে বকাঝকা করে বলেছেন, আমার মেয়ের সঙ্গে তুমি সবসময় ঝগড়া করো। আমার মেয়ে আর তোমার কাছে থাকবে না, তোমাকে তালাক দেবে। এ কথা শোনার পর শিপন আরও উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী ফারজানাকে এলোপাতাড়ি ছুরি মারেন। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গেলে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকেও এলোপাতাড়ি ছুরি মারা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফারজানা ও ফিরোজা।
এ ঘটনার পর শিপন এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেন।





