বিদ্যুতে প্রকৌশলী পদে ৫০% প্রমোশনাল কোটা বাতিলের দাবি

রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের সামনে সংগঠনটির কর্মসূচি। ছবি : আগামীর সময়
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রমোশনাল কোটা ৩৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’। একই সঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ প্রমোশনাল কোটার দাবিও প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রবিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে সংগঠনটি। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান সংগঠনটির নেতারা।
সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলস-২০২৬-এ প্রমোশনাল কোটা বাড়ানো হলে সহকারী প্রকৌশলী পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হবে। এতে মেধাবী স্নাতক প্রকৌশলীদের ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ কমে যাবে। বিদ্যুৎ খাতের পেশাগত ভারসাম্য, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা, যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানায় তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত কাঠামোয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পদে ধারাবাহিক ক্যারিয়ার অগ্রগতির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ডিপ্লোমাধারীদের ক্যারিয়ার অগ্রগতির পথ নষ্ট হয়েছে—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করে সংগঠনটি।
‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’ আরও বলেছে, সহকারী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ, নকশা, কারিগরি তদারকি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। এসব পদে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে প্রকৌশলগত জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক মেধাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১৯৭৮ সালের একটি অফিস আদেশের আইনগত ভিত্তি, এখতিয়ার, প্রক্রিয়াগত বৈধতা ও বর্তমান প্রয়োগযোগ্যতা যাচাইয়েরও দাবি জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ওই আদেশের ভিত্তিতে বর্তমান প্রমোশনাল কোটা নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি এম ওয়ালি উল্লাহ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাকিল আহমেদ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি প্রস্তাবিত ৫০ শতাংশ প্রমোশনাল কোটা এবং সংশ্লিষ্ট কোটাভিত্তিক প্রস্তাব বাতিলের পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতি প্রকাশ্য, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাভিত্তিক এবং সাংবিধানিক সমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়েছে।





