এবার ঢাকার হাটে দ্বিগুণের বেশি পশু
- কোরবানির পশু বিক্রি শুরু আজ

ঢাকার কোরবানির পশুর হাটে আসতে শুরু করেছে পশু। গরু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় এক বিক্রেতা
ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো পশু বিক্রি। আজ রবিবার থেকে রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে ২১টি; যার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১টি আর দক্ষিণে ১০টি। হাটগুলো ঘুরে দেখা গেল, এবার পশুর সংখ্যা গতবারের চেয়ে বেশি। আগামী তিন দিন এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০২৪ সালে দেশে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। গত বছর এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টিতে। এর মধ্যে ৪৭ লাখ গরু ও মহিষ। আর বাকি ৪৪ লাখ ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালে পশু কোরবানি তুলনামূলক কম হয়েছিল।
নানা পথ পেরিয়ে এ বছর দেশে ক্ষমতায় এসেছে রাজনৈতিক সরকার। খাতসংশ্লিষ্ট থেকে সাধারণ মানুষ— সবারই প্রত্যাশা, বাড়বে কোরবানির সংখ্যা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খামার শাখার উপপরিচালক মো. শরীফুল হক আগামীর সময়কে জানালেন, এবার দেশে চাহিদার চেয়ে পশুর সরবরাহ বেশি, ফলে পশুর সংকট হবে না। এবার কোরবানির সংখ্যাও বাড়বে, প্রত্যাশা তার।
গতকাল দুপুরে তেজগাঁও এলাকার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠের পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে মূল আকর্ষণ উট। এবার এই হাটে উঠেছে চারটি উট, যার মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে দুটি। হাটের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলছিলেন, ‘গত বছরের চেয়ে হাটে পশুর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। আগামী তিন দিন এ সংখ্যা আরও বাড়বে। আকারে ছোট এই হাটটির মূল ক্রেতা গুলশান, তেজগাঁও এলাকার ধনিকশ্রেণি।
ফলে এই হাটে বড় গরুর চাহিদা বেশি। পশুর দামও গত বছরের চেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত তেজগাঁও হাটে গরু উঠেছে ৬ হাজারের মতো।’
অন্যদিকে ৩৫ হাজারের বেশি গরু উঠেছে উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে। যেখানে গত বছর এই হাটে পশুর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজারের কাছাকাছি। হাটটির ইজারার সঙ্গে যুক্ত এ এম এ জামানের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বললেন, ‘এবার দিয়াবাড়ি হাটের পশুর টার্গেট ৪০ হাজারের বেশি। এরই মধ্যে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি পশু হাটে এসেছে। আগামী দু-তিন দিনে এ হাটে আরও পাঁচ হাজার পশু আসবে।’
এ দুটি হাটের মতো ঢাকার সব হাটে এবার পশুর সরবরাহ বেশি। আর এ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল বায়েস। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘কোরবানিকে কেন্দ্র করে একটি বড় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হয়। ১ কোটি পশু কোরবানি হলে অন্তত ২ কোটি মানুষ তার প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করে।’
তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে না দিয়ে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে কোরবানি দিতে পরামর্শ দিয়েছেন এই অর্থনৈতিক বিশ্লেষক। এতে মাংস ও শহরের পরিবেশ দুটিরই সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, মত তার।






