বিআইএন নিশ্চিতে
এনবিআরের চিঠি ৫ মন্ত্রণালয় ও সংস্থায়

ফাইল ছবি
ভুয়া, অঘোষিত কিংবা করের আওতার বাইরে থাকা ব্যবসা শনাক্তে এবার কঠোর অবস্থানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, লাইসেন্স নবায়ন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, মোটরযান নিবন্ধন এমনকি ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ— সব ক্ষেত্রেই ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং এফবিসিসিআইকে চিঠি পাঠিয়েছে এনবিআর। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে করজালের বাইরে থাকা হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রথমবারের মতো একই প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা।
সদ্য পাস হওয়া বাজেটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়। এরই অংশ হিসেবে সংস্থাটি এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
বর্তমানে সারা দেশে আট লাখের মতো বিআইএনধারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। চলতি বছরে তা ২০ লাখে উন্নীত করতে চায় এনবিআর।
জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্যাট খাতে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।
এর আগে একই ধরনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংককেও চিঠি দেয় এনবিআর। ওই চিঠিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে চলতি হিসাব, এসটিডি (শর্ট টার্ম ডিপোজিট) হিসাব, ঋণ এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিআইএন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
এনবিআর জানায়, অর্থ আইন-২০২৬ অনুযায়ী মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এ নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। এর ফলে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি বা এসটিডি হিসাব খুলতে এবং পরিচালনা করতে চাইলে বিআইএন অথবা তালিকাভুক্তির প্রমাণপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক হবে।
একই বিধান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণ, এমএফএস মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ গ্রহণ এবং মোটরযান নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে পরিচালিত ব্যবসায়িক চলতি হিসাব, এসটিডি হিসাব, ঋণ এবং এমএফএস মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টেও দ্রুত বিআইএন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এজন্য তফসিলি ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে এনবিআর।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের অর্থবিলে ব্যবসা ও করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতে আরও কয়েকটি সেবার সঙ্গে বিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিআইএন ছাড়া কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সেবার সঙ্গে বিআইএন সংযুক্ত করায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই সহজ হবে, ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা বাড়বে এবং করজাল সম্প্রসারণে গতি আসবে। পাশাপাশি বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্যবিনিময় আরও কার্যকর হবে, ভ্যাট ফাঁকি কমবে এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।




