হতাশার পরও টুখেলে ভরসা

হারের পর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধান কোচ থমাস টুখেল।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। এই হারের পর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধান কোচ থমাস টুখেল। তবে সমালোচনা সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এখনই তার ওপর আস্থা হারাচ্ছে না। বরং ২০২৮ সালের ইউরো পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনাই বেশি জার্মান এই কোচের।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্যারেথ সাউথগেটের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন টুখেল। টানা দুই ইউরো ফাইনাল ও একটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া সাউথগেটের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে দলকে শিরোপা এনে দেবেন— এমন প্রত্যাশাই ছিল তার কাছে।
সেমিফাইনালে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও ছিল ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে টুখেলের রক্ষণাত্মক পরিবর্তন আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় থ্রি লায়ন্সদের।
একই গল্পের পুনরাবৃত্তিই ঘটে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে। গত তিন দশকে নকআউট পর্ব থেকে যতবার বিদায় নিয়েছে, তার বেশিরভাগ ম্যাচেই কোনো না কোনো সময় এগিয়ে ছিল ইংলিশরা। ১৯৯৬ সালে জার্মানির বিপক্ষে, ১৯৯৮ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে, ২০০৪ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে, ২০১৬ সালে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এবং ২০২১ সালে ইতালির বিপক্ষে— সব ম্যাচেই প্রথমে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেটা ধরে রাখতে পারেনি তারা।
সেমিফাইনালে হারের পর টুখেলের রক্ষণের খোলসে ঢুকে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা পিএ জানিয়েছে, এফএ এখনো তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে।
শুরুতে টুখেলের চুক্তি ছিল শুধু এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে সেটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে স্বাগতিক হিসেবে আয়োজিত হতে যাওয়া ইউরো ২০২৮-এ ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর টুখেল বলেছেন, ‘ইউরো পর্যন্ত আমার চুক্তি রয়েছে। এখন এটা নিয়ে ভাবা কঠিন হলেও আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।’
তবে বিশ্বকাপ অভিযান এখনো শেষ হয়নি ইংল্যান্ডের।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে তারা। এই ম্যাচ নিয়ে টুখেল বলেছেন, ‘ইংল্যান্ড বা ফ্রান্স— কোনো দলের খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল। আমরা ফাইনালে ওঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
বায়ার্নের হয়ে গোল উৎসব করা হ্যারি কেইন বিশ্বকাপেও গোল করেছেন ৬টি। তবে আসল সময়েই নিষ্প্রভ তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খুঁজেই পাওয়া যায়নি কেইনকে। দেশের জার্সিতে তাই বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নটা অপূর্ণই রইল। একইভাবে ২০২০, ২০২৪— টানা দুই ইউরোতে ফাইনালে উঠেও থাকতে হয়েছে ট্রফিহীন।
চার বছর পর ইংলিশ অধিনায়কের বয়সটা দাঁড়াবে ৩৬। পরের বিশ্বকাপে তাই তাকে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নটা চলেই আসে। এ নিয়ে কেইন বলেছেন, ‘এখনই আমি কিছু বলতে চাই না। এখন যেভাবে খেলছি, তখন কেমন খেলব, তার ওপর নির্ভর করে বিশ্বকাপ খেলা। মেসি তো ৩৯ পর্যন্ত খেলে যাচ্ছেন, পারফর্ম করছেন। দেখা যাক আমার বেলায় কী হয়। আমি কোনো দাগ টেনে দিতে চাইছি না এখনই।’




