টুখেলের অতিরক্ষণ আর স্কালোনির সাহস

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালটি ছিল মূলত দুই হাই প্রোফাইল কোচের ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে নামা ইংল্যান্ড দলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল, যেখানে রাইট ও লেফট ফুলব্যাকে জেমস ও স্পেন্স এবং সেন্ট্রাল ব্যাকে খেলেন স্টোনস ও গুয়েহি। মিডফিল্ডে ডেকলান রাইস ও অ্যান্ডারসনের সামনে জুড বেলিংহাম খেলেন নম্বর টেন হিসেবে এবং দুই উইংয়ে অ্যান্থনি গর্ডন ও মরগান রজার্স মাঠে নামেন। স্ট্রাইকার হিসেবে ছিলেন হ্যারি কেইন আর সাকা, মাদুয়েকে ও রাশফোর্ডকে রাখা হয় বেঞ্চে। অন্যদিকে, ৪-৪-২ ফরমেশনের আর্জেন্টিনার মোলিনা, তালিয়াফিকো, রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ব্যাকলাইনের সামনে মিডফিল্ডে খেলেন ম্যাক আলিস্টার, এনসো ফের্নান্দেস ও পারেদেস, যেখানে দে পল ছিলেন বেঞ্চে। আক্রমণে লিওনেল মেসির সঙ্গী ছিলেন হুলিয়ান আলভারেস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাঝে মরগান রজার্সের চমৎকার ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন।
গোল পাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। তারা অতিরিক্ত সেন্ট্রাল ব্যাক নামিয়ে ৫-৪-১ ফরমেশনের একটি অতিমাত্রার লো-ডিফেন্সিভ ব্লকে চলে যায়, যা শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়। এর বিপরীতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দুর্দান্ত কিছু আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনেন। তিনি মোলিনা ও পারেদেসকে তুলে দে পল, লাউতারো মার্তিনেস ও নিকো গঞ্জালেসকে নামান। আর্জেন্টিনা তখন ৩-৩-৪ অথবা ৩-৫-২ ফরমেশনে চলে যায়। ওতামেন্দি, রোমেরো ও মন্তিয়েলের থ্রি-ম্যান ডিফেন্সের সামনে মাঝমাঠে ছিলেন ম্যাক আলিস্টার, এনসো ও দে পল এবং আক্রমণে মেসি ডান প্রান্তে ওয়াইড এরিয়ায়, নিকো বাঁ প্রান্তে এবং মাঝমাঠে আলভারেস ও লাউতারো জুটি গড়েন।
ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত লো-ব্লকের কারণে তাদের মিডফিল্ড ও ডিফেন্স লাইনের মাঝের জোন ফরটিন অরক্ষিত হয়ে পড়ে। স্কালোনি এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে মূলত দুটি ট্যাকটিকস ব্যবহার করেন, যার একটি ছিল মেসির ডান প্রান্ত থেকে একের পর এক ক্ষুরধার ইনসুইঙ্গার ক্রস এবং অন্যটি ছিল জোন ফরটিনে জায়গা পেয়ে যায় এনসো ও আলিস্টারদের করা দূরপাল্লার শট। ইংল্যান্ডের ডিফেন্সিভ লাইনের সমন্বয়হীনতার সুযোগে জোন ফরটিনে সম্পূর্ণ ফ্রি পজিশন পান এনসো।




