নলুয়া-বাহেরচর সেতু
শুরুর ভুলে থমকে কাজ
- পাঁচ বছরে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ১০.৮০ শতাংশ

পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ। ছবি: সংগৃহীত
বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া একটি সেতু নির্মাণে গতি নেই। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ। নতুন করে সাড়ে তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধাক্কায় নির্মাণ খরচ না বাড়লেও ভবিষ্যতে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘বরিশাল (দিনেরারপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি সড়কের ২৭ কিলোমিটারে পাণ্ডব-পায়রা নদীর ওপর নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পে বিরাজ করছে এ অবস্থা। এটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর (সওজ)। গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত হয় প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে আইএমইডির সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ আগামীর সময়কে বলেছেন, সেতুটি সময়মতো বাস্তবায়ন হলে যে সুবিধা দেশের অর্থনীতিতে যোগ হতো সেটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। এ ছাড়া সাড়ে তিন বছর পেছানোয় অবশ্যই ব্যয় বাড়বে। কেননা আগে যে টাকায় যে জিনিস পাওয়া যেত, এখন তো সেটি আর পাওয়া যাবে না। আবার আগামী দিনে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের গাফিলতি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি শুরু হওয়ার আগে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে সময় লেগেছে দেড় বছরেরও বেশি। এ ছাড়া প্রকল্পের শুরুর পর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল ছিল না। পাশাপাশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে অনেক সময় চলে যায়। সেই সঙ্গে দাপ্তরিক প্রাক্কলন অনুমোদন এবং পূর্ত কাজের দরপত্র আহ্বানের অনুমতি পেতেই দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হয়েছে। ক্রয় কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সম্মতি পেতে উল্লেখযোগ্য সময় পার হয়ে যায়। এ ধরনের সেতু নির্মাণে ন্যূনতম ৩৬ মাস, ডিফেক্টস লায়াবিলিটি পিরিয়ডের জন্য ১২ মাস অর্থাৎ, মোবিলাইজেশন হতে মোট ৪৮ মাস সময় প্রয়োজন। সে অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিএসসি সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩৮৬ কোটি এবং ওপেক ফান্ডের বৈদেশিক ঋণ থেকে ৬৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচের লক্ষ্য রয়েছে। একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু গত জুন পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত বাস্তব (ভৌত) এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করে গত ১০ জুন পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ঋণ চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি)। কিন্তু ইআরডি ঋণ চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আবারও পাঠানোর কথা বলেছে।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী মূল প্যাকেজ তিনটি। এর মধ্যে পরামর্শক সেবা প্যাকেজের আওতায় সেতু প্রকল্পের বিস্তারিত ডিজাইন ও টেন্ডার সহায়তা সেবা নেওয়া শেষ হয়েছে।
সভায় অংশ নিয়ে সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান জানিয়েছেন, ডিপিপি তৈরির সময় বিস্তারিত ডিজাইন না থাকায় ধারণার ওপর ভিত্তি করে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের স্কোপ অনুযায়ী পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে বিস্তারিত ডিজাইন করে সে অনুযায়ী দাপ্তরিক প্রাক্কলন তৈরি করা হয়। এরপর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এ ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে ওপেক ফান্ডের সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় বেশ খানিকটা সময়ক্ষেপণ হয়েছে।




