পতনের ধারায় ইইউতে পোশাক রপ্তানি
- জানুয়ারি-মে’তে রপ্তানি কমেছে ১৯%

পাঁচ মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৮.৮৯ শতাংশ কমে ৭.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক আমদানিতে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে ২০২৬) বৈশ্বিক চাহিদা কমলেও সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। এ সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি মূল্য কমেছে ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মে সময়ে ইইউর বিশ্বব্যাপী পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) কমেছে ৬ দশমিক ৪৬ এবং গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ইউরোপে পোশাক আমদানির পতনের পেছনে দুর্বল ভোক্তা চাহিদা ও মূল্যহ্রাস— দুই কারণই প্রায় সমানভাবে কাজ করেছে।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। পাঁচ মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৮.৮৯ শতাংশ কমে ৭.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১০.৪৬ এবং ইউনিট মূল্য কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, বাংলাদেশ একই সঙ্গে অর্ডার ও মূল্য— উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, যা বৈশ্বিক গড় পতনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
শুধু মে মাসের চিত্রও আশাব্যঞ্জক নয়। ওই মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি মূল্য কমেছে ১৭ দশমিক ১২, রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১৩ দশমিক ৫৫ এবং ইউনিট মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর চিত্র ছিল ভিন্ন। চীনের রপ্তানি কমেছে মাত্র ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। দেশটি একমাত্র বড় সরবরাহকারী, যার রপ্তানির পরিমাণ ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বাজার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে চীন।
অন্যদিকে, ভিয়েতনামের রপ্তানি কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমলেও ইউনিট মূল্য ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ, উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশটি রপ্তানি আয় প্রায় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, এপ্রিলের পর মে মাসেও একই ধরনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে এটি সাময়িক মাসভিত্তিক ওঠানামা নয়, বরং বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় একটি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।




