উৎসাহ-উদ্দীপনায় শুরু রথযাত্রা মহোৎসব
- ফিরতি যাত্রা ২৪ জুলাই

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং দেশের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত মুক্তি কামনায় বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারা দেশে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ১২৮টি স্থানে এ উৎসব পালিত হয়। রাজধানীর রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কেন্দ্রীয় রথযাত্রা বিকেল ৩টায় রাজধানীর স্বামীবাগের ইসকন আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, শাপলা চত্বর, জাতীয় প্রেস ক্লাব, দোয়েল চত্বর ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। এতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা ভক্তরা অংশ নেন। পুরো আয়োজনকে ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। আগামী ২৪ জুলাই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে একই পথে উল্টোরথ স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে ফিরবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে সাত দিনের এই ধর্মীয় উৎসব। ইসকনের বাইরে রাজধানীর আরও অন্তত আটটি স্থান থেকেও পৃথকভাবে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রথযাত্রায় অংশ নেওয়া পুরান ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা সজীব ঘোষ বলেন, ‘প্রভু জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মা আজ আমাদের কৃপা করবেন বলে ধরাধামে এসেছেন। প্রার্থনা করি, প্রভু যেন সব সংকট সমাধানে আমাদের সাহস ও শক্তি জোগান। আমাদের মন যেন সবসময় তার চরণে নিবেদিত থাকে।’
এর আগে সকালে স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় তিনি বলেন, ‘বিএনপি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মকেই সমান গুরুত্ব দেন। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে উন্নত বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।’
ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস আব্দুস, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) গোকুল ভি. কে., বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেন্দ্রীয় নেতা দেবাশীষ রায় মধুসহ ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ভক্তিময় নিতাই স্বামী বক্তব্য দেন।
হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিনে প্রভু জগন্নাথ, প্রভু বলদেব ও মাতা সুভদ্রাদেবী নিজ গৃহ থেকে মাসির বাড়িতে গমন করেন। সেখানে সাত দিন অবস্থানের পর তারা নিজ গৃহে ফিরে আসেন। ভারতের উড়িষ্যার পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে রথযাত্রার প্রচলন হলেও বাংলাদেশেও এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকেই ঢাকায় রথযাত্রার আয়োজনের ঐতিহ্য রয়েছে।





