ফাতেমা হত্যারহস্য উদঘাটন, ৮৭ সিসিটিভি ফুটেজে মিলল ক্লু

ফাতেমা বেগমের খুনি হাসিনা বেগম। ছবি: আগামীর সময়
নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর ময়লার স্তূপে ফেলে যায় প্রতারকচক্র। শহরের প্রায় ৮৭টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে। গ্রেপ্তার করা হয় খুনি হাসিনাকেও।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ফাতেমা বেগম। এর আগে একটি প্রতারক চক্র তাকে অচেতন করে গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। পরে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার স্তূপের পাশে তাকে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শুরু করে। মামলার রহস্য উদঘাটনে শহরের বিভিন্ন এলাকার ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে মুখে মাস্ক, চোখে চশমা এবং সঙ্গে আড়াই বছরের একটি শিশু থাকা এক সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা বেগম স্বীকার করেছেন, তিনি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কৌশলে সখ্য তৈরি করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাদের সর্বস্ব লুট করতেন। ঘটনার দিন শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগম ও তার স্বামীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে ফাতেমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, রিকশায় ওঠার পর হাসিনা নিজের কাছে থাকা ফলের জুসের সঙ্গে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে খাওয়ান। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার গলার ও হাতের স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা আরও জানিয়েছেন, লুট করা স্বর্ণালংকারগুলো শহরের ‘জোয়ারদার জুয়েলার্স’-এর ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবি পুলিশের ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




