সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপের ফাইনালে এবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। কিন্তু খেলা শুরুর আগেই বাংলাদেশে রেজাল্ট বের হয়ে গেছে। অবশ্য একবার নয়, অন্তত ৪৭ বার। আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের মতে, কাপ এরই মধ্যে বিমানে উঠে গেছে। শুধু ফিফা আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে ৯০ মিনিট খেলাবে। অন্যদিকে স্পেন-সমর্থকরা বলছেন, ‘ফুটবল এখন বিজ্ঞান। পাসিং, পজেশন আর পরিসংখ্যানের যুগে আবেগ দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা যায় না।’ তবে দুই পক্ষই এক বিষয়ে একমত, রেফারি যদি তাদের দলের বিপক্ষে একটি বাঁশিও দেন, তাহলে তিনি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
এদিকে দেশের জার্সি বিক্রেতারা সবচেয়ে নিরপেক্ষ মানুষ। আর্জেন্টিনা জিতলে তারা হাসবেন। স্পেন জিতলেও হাসবেন। টাইব্রেকার হলে আরও বেশি হাসবেন। কারণ উত্তেজনা যত বাড়ে, তত বাড়ে পতাকা, হর্ন আর জার্সির বিক্রি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রস্তুতি শেষ। কয়েক হাজার পোস্ট আগেই লেখা হয়ে গেছে। শুধু শেষ বাঁশির সঙ্গে মিলিয়ে ‘এরই নাম ফুটবল’ অথবা ‘একেই বলে ফুটবলের মৃত্যু’ বসিয়ে দিলেই চলবে। পাড়ার চায়ের দোকানে এরই মধ্যে পাঁচজন সাবেক কোচ, সাতজন সাবেক রেফারি আর ১২ জন সাবেক স্ট্রাইকারের জন্ম হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের দাবি, জাতীয় দলের কোচ যদি একবার তাদের সঙ্গে আধা ঘণ্টা বসতেন, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসই বদলে যেত।
এদিকে দেশের ভবিষ্যদ্বাণী বিভাগ জানিয়েছে, ম্যাচে যে দলই জিতুক, বাংলাদেশে অন্তত তিন দিন কর্মঘণ্টা কমে যাবে। অফিসে হাজিরা থাকবে, কিন্তু কাজ হবে না। ফেসবুক, ইউটিউব আর মন্তব্যের মাঠেই চলবে আসল খেলা। তবে সবচেয়ে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণীটি অবশ্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের নয়, পাড়ার সালাউদ্দিন চাচার। তিনি বলেছেন, ‘যে দল বেশি গোল দেবে, তারাই শিরোপা জিতবে।’ সুতরাং পুরো খেলাটি দেখতে হবে; মিস করা যাবে না এক মিনিটও।




