আগামীর চোখ
একদিন তোমাদের শহরও হবে ডাস্টবিন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
ঝালকাঠি শহর
শুভেচ্ছা নিও। আমি সুগন্ধা নদী বলছি। আশা করি, নাগরিক কোলাহলের ভেতরেও তুমি বেশ ভালোই আছো। কিন্তু আমি ভালো নেই। চিরকাল তোমার ভেতর বসবাস করা মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে এসেছি। কিন্তু আজ েসই মানুষরাই আমার জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। তারা বর্জ্য ফেলে আমাকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে রোজ। শ্বাস নিতেই কষ্ট হয় আমার।
তুমি নাকি পৌরসভা, অথচ তোমার স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নেই! আর সেই চরম সংকটের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাকে। প্রতিদিন সকাল হলেই বাজার ও বাসাবাড়ির যত বিষাক্ত বর্জ্য, প্লাস্টিক আর পচা আবর্জনা এনে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে আমার আর বাসন্ডা নদীর বুকে। আমরা যেন নদী নই, পৌরসভার সরকারি ডাস্টবিন! আমার পানির ওপর অনেকেই নির্ভর করেন। কিন্তু তোমরা যেভাবে আমার বুকে বিষ ঢালছ, তাতে আমি এখন বিষের নদী হওয়ার পথে। সদর হাসপাতালের দুঁদে ডাক্তাররা বলছেন, আমার দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ রোগ তো ওই মানুষদের দেওয়া বর্জ্য নামক উপহার থেকেই তৈরি হচ্ছে। কী নির্মম পরিহাস, আজ তারাই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে!
পৌরসভার প্রশাসক সাহেব আমার তীরে ছয় ফুট উঁচু সীমানাপ্রাচীর তুলেছেন। তিনি বলছেন, তীর থেকে বর্জ্য নদীর পািনতে যেন না যায়, তার জন্যই এ ব্যবস্থা! দেয়াল দিয়ে আমার দূষণ রোধ করা যাবে বলো? সীমানাপ্রাচীর দিয়ে নদীদূষণ ঠেকানোর এই অদ্ভুত আইডিয়া পৃথিবীর আর কোথাও প্রয়োগ হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। তবে সেই প্রাচীরও বর্জ্যের পাহাড়ে ঢাকা পড়ে গেছে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে নাকি একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। কিন্তু এই ‘চলতি’ পরিকল্পনা কবে যে ‘চলতে’ শুরু করবে, তা কেউই জানে না।
তোমার নাগরিকবৃন্দ এবং পৌরসভার হর্তাকর্তাদের বলে দিও যে ‘নদী বাঁচলে শহর বাঁচবে’। তাদের আরও বলে দিও, ‘আমাকে বর্জ্যের নিচে চাপা দিয়ে মারলে একদিন তোমাদের এই প্রিয় শহরও এক জীবন্ত ডাস্টবিনে পরিণত হবে।’ তাই আর কোনো অজুহাত না দিয়ে অবিলম্বে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করে আমাদের মুক্তি দিতে বলো। নইলে আমি রোগের প্ল্যান্ট হয়ে দ্রুত হাজির হব।
ইতি
সুগন্ধা নদী




