দরজায় তালা; খাটের নিচে রক্তাক্ত মরদেহ, উধাও স্বামী

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর কদমতলীর একটি বাসায় খাটের নিচ থেকে ইয়ানুর বেগম (২৫) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আগের রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা মাকে জানিয়েছিলেন তিনি। পরদিন সকালে ছোট ভাই বাসায় গিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা দেখতে পান। তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে রক্তের দাগের পর খাটের নিচে ইয়ানুরের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল পলাতক।
আজ শুক্রবার দুপুররে কদমতলীর ৬৭০ নম্বর গলির জিএম কাদেরের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ডান পাশের একটি সাবলেট বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কদমতলী থানার এসআই কামরুন নাহার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইয়ানুরের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর তার স্বামী জুয়েলকে পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় তিন মাস আগে ইয়ানুর ও জুয়েল ওই বাসাটি ভাড়া নেন। এর আগে ইয়ানুরের আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে বিচ্ছেদ হওয়ার পর তার পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। শিশুটি বর্তমানে নানা-নানির কাছে থাকে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়েলের সঙ্গে ইয়ানুরের বিয়েটিও হয় পালিয়ে। নতুন সংসার শুরুর পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো।
পুলিশের কাছে দেওয়া পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি মাকে জানান ইয়ানুর। এরপর কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শুক্রবার সকালে ইয়ানুরের ছোট ভাই মো. ইমাম হোসেন মোবাইল ফোনে বোনকে না পেয়ে বাসায় যান। সেখানে বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। পরে খোঁজাখুঁজি করে খাটের নিচে ইয়ানুরের লাশ দেখতে পান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে জুয়েল পলাতক। তিনি পেশায় একটি গাড়ির সুপারভাইজার। তার খুঁজে বের করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহত ইয়ানুর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। মাত্র তিন মাস আগে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন তিনি।




