হজযাত্রীদের বীমার বাইরে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হবে

মোঃ আবুবকর সিদ্দীক (সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর, ঢাকা)
২০২৬ সালের হজে স্বাস্থ্য বীমার আওতাবহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে বাংলাদেশের ৩৪০ জন হাজীর কাছ থেকে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল পরিশোধের জন্য পত্র দিয়েছে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন ৩১০ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ জন।
হজ ও উমরাহ পালনে সৌদি আরবের বাইরে থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভিসার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত এই বীমার মেয়াদ ৯০ দিন। এর আওতায় জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, দুর্ঘটনা ও আকস্মিক অসুস্থতার চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত যেকোনো চিকিৎসা ব্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট হাজীকেই বহন করতে হবে।
একজন হাজীর সর্বোচ্চ দুই লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয় বীমার আওতায় রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যয় এই সীমা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত অর্থ হাজীকে পরিশোধ করতে হবে। ছোটখাটো কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বীমার নির্ধারিত সীমা রয়েছে।
৮ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত সীমার মধ্যে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাজীদের নিজ অর্থ ব্যয় করতে হয় না। তবে অন্যান্য সময়ে নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসায় মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ, সর্বনিম্ন ২০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত হাজীকে বহন করতে হয়।
এবার প্রথমবারের মতো বিভিন্ন দেশের হাজীদের বীমাবহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ দাপ্তরিক পত্র দিয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা হাজীদের প্যাকেজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে এ ব্যয় সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা হাজীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় নিয়ে হজ এজেন্সিগুলো জটিলতায় পড়েছে।
হজযাত্রীদের তাই সৌদি আরবে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য বীমার আওতা, সীমা এবং বীমাবহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয়ের দায় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



