থার্ড টার্মিনাল নিয়ে চুক্তি এ মাসে হচ্ছে না

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চলতি মাসেই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তবে কিছু বিষয় চূড়ান্ত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সেই চুক্তি হচ্ছে না। এখন বেবিচকের আশা, আগামী আগস্টের শেষদিকে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে।
রাজধানীর কুর্মিটোলায় গতকাল সোমবার বেবিচকের সদর দপ্তরে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ‘সিভিল অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। সেখানে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেছেন, চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টা চলছে। তার বিশ্বাস, আগস্টের শেষ কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের পর আর কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুযোগ থাকবে না। তাই ১৬ ডিসেম্বর বা অন্য যেদিনই উদ্বোধন হোক, সেদিন থেকে অপারেশন চালু রাখতে হবে। এ বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুরুতে টার্মিনালটির সক্ষমতার ২০-২৫ শতাংশ ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ছয় মাসের মধ্যে শতভাগ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত জুনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা চুক্তি হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত থাকায় আলোচনা শেষ করা যায়নি। সংস্থাটির সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান জানিয়েছেন, ৩১ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়াম তাদের বিড জমা দেবে। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। সেই আলোচনা সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে চুক্তি স্বাক্ষরের পথ খুলে যাবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় জাপানি কনসোর্টিয়াম তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার পাশাপাশি মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং, নতুন ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল ব্যবহারের দায়িত্বও পাবে।




