ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : পোস্টাল ভোটে খরচ ৬৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা
- ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনেও নেওয়া হবে পোস্টাল ভোট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ভোট নিতে একেকটির পেছনে খরচ হয় আনুমানিক ৪৪৪ টাকা ৯১ পয়সা। এ হিসাবে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল বিডি অ্যাপে নিবন্ধন করেছিলেন ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন ভোটার। সে হিসাবে খরচ হয়েছে আনুমানিক ৬৭ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৬৩ টাকা। তবে ভোট দিয়েছিলেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন। এই ভোটদানকারী ভোটারদের হিসাব ধরলে ব্যয় হয়েছিল আনুমানিক ৫৪ কোটি ৪৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৩ টাকা ৮ পয়সা। যদিও ওই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছিল ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ভোট।
গত ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন (ওসিভি-এসডিআই)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) চতুর্থ সভায় পোস্টাল ভোটে একজন ভোটারের পেছনে কত খরচ হয়েছিল সে তথ্য তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আলম। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ওভিসি-এসডিআই প্রকল্পের পরামর্শকরা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ব্যবহারের জন্য ব-কেওয়াইসি টুলস উন্নয়ন বা ডেভেলপমেন্টের কাজ শেষ করেছেন। বর্তমানে ওই টুলস জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে অনুষ্ঠিত তৃতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরামর্শক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রতি ভোটগ্রহণে আনুমানিক ৪৪৪ টাকা ৯১ পয়সা ব্যয় হয়।
চতুর্থ পিআইসি সভায় প্রকল্পের পরামর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাকির হোসেন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি এবং আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩ ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রম ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনায় তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গত ১০ সেপ্টেম্বর আইডিএ-২ প্রকল্পের কল সেন্টারের এজেন্টদের পোস্টাল ভোটিংসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ওই নির্বাচনী এলাকায় ওসিভিতেতে আগে নিবন্ধিত ভোটারদের ভোট দেওয়ার সম্মতি নিশ্চিতকরণ এবং নতুন ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে আর্মি প্রিন্টিং প্রেসে ব্যালট পেপার ও সংশ্লিষ্ট খাম মুদ্রণ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান। গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওসিভিতে পূর্বে নিবন্ধিত ২৯ জন ভোটার ৩ ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকায় ভোট দিতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে উল্লেখিত সময় পর্যন্ত নতুন কোনো ভোটার নিবন্ধন করেননি।
সভা সূত্র জানায়, এর আগে অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত পোস্টাল ভোটিংয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে গত ২২ জুলাই নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম, কর্মপরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী গত ৩১ আগস্ট এর মধ্যে প্রকল্পের সব কার্যক্রম, নথিপত্র, সিস্টেম ও দায়িত্ব অ্যাডহক নন-ইন পার্সন ভোটিং উইংয়ের কাছে যথাযথভাবে হস্তান্তর সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১৩ আগস্ট অ্যাডহক নন-ইন পারসেন বৈাটিং উইং গঠন করা হয় এবং প্রকল্পটির কার্যক্রম, নথিপত্র, সিস্টেম ও দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য ৫টি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটিগুলোর নেতৃত্বে প্রকল্পের পরামর্শকেরা প্রকল্পের কার্যক্রম, নথিপত্র, সিস্টেম ও দায়িত্ব হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ ৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে হস্তান্তর কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত হয়।



