হে ইলিশ, তুমি বঙ্গে ফিরে এসো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বৃহস্পতিবার থেকে চরফ্যাশনের অদূরে বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ ধরা পড়ছে যথেষ্ট পরিমাণে। এক ক্ষ্যাপে পাওয়া যাচ্ছে ২ থেকে ৩ মণ ইলিশ। অথচ পুরো ২০২৬-এর বর্ষা মৌসুমে ইলিশের টিকিটি পর্যন্ত দেখা যায়নি। ছোটখাটো জাটকা অনেক দাম দিয়ে কিনেছে মানুষ। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে ভারতীয় ইলিশ। গুজরাট থেকে এসেছে। গুজরাটের মানুষ ইলিশ তেমন আহার করে না। ফলে আমাদের ভাগ্যে যেন ফুল-চন্দন পড়ল! পরে জানা গেল মিয়ানমারের ইলিশও ভারতীয় ইলিশ হিসেবে বাংলাদেশে আসছে। তারপর জানা গেল, ভারতীয় মাছ আমদানি বন্ধ হয়েছে। এর পরপরই চর ফ্যাশনে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার খবরটি এলো।
আমি বুঝবার চেষ্টা করছিলাম, কয়েক বছর আগে থেকে আমরা প্রচুর ইলিশ মাছ বাজারে পাচ্ছিলাম। এর মধ্যে একটি বড় ছাত্র গণআন্দোলন হয়ে গেল। শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে গেলেন। আর কিনা ইলিশ মাছ নদীতে আসা বন্ধ হয়ে গেল! আমি মানতে পারছিলাম না। আমার মনে হচ্ছিল, হঠাৎই কিছু একটা হয়েছে, যা মৎস্যরাজ ইলিশের পছন্দ হয়নি। গত ক’দিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবছিলাম। এটি নিয়ে পত্রিকায় অনেক রিপোর্ট হয়েছে। সেখানে জাটকা মাছ শিকার, নাব্য হ্রাস পাওয়া ও অবিচারে মাছ শিকার করাকে দায়ী করা হয়েছে। আমি ভাবছিলাম এর বাইরেও কি কোনো কারণ রয়েছে কি না। আমি ডিপসিক ও অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিলাম। দু-তিন বছরে ডুবোচর কতটাই বা বাড়তে পারে?
জাটকার বিষয়টি মেনে নিলেও বড় ইলিশের ঘটনা বুঝবার জন্য আমি প্রশ্ন করলাম : ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও মিয়ানমারে গত দু-বছরে ভূমিকম্প কখন কখন হয়েছে? তাদের মাত্রা কেমন ছিল। দেখলাম মার্চ থেকে শুরু করে আগস্ট পর্যন্ত অত্র অঞ্চলে বেশ ভূমিকম্প হয়েছে। ভারতে কম হয়েছে। মনে হলো ইলিশ মাছ ভূমিকম্প টের পায়। জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, ইলিশ মাছ ভূমিকম্প টের পায় না। ভূমিকম্প বুঝতে পারে আইড় মাছ, পাঙাশ মাছ এরা। আর বাংলাদেশের মোহনায় হলুদ-লেজওয়ালা পাঙাশ অনেক পাওয়া যায়। এ নিয়ে উইলি অনলাইন লাইব্রেরি ২০২৪ সালে ১২ অক্টোবর রীতিমতো গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
সে যাকগে...অমি ভাবছিলাম ইলিশের কথা। পরে দেখলাম জাপানে সুনামি হওয়ার আগে গভীর সমুদ্র থেকে অনেকসংখ্যক রিউগু সুকাই বা ইংরেজিতে ওর (Oar fish) মাছ সৈকতে চলে আসে অথবা জেলেদের জালে ধরা পড়তে থাকে। আজ থেকে ১৫ বছর আগের ওই সুনামি জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তহুকু (Tōhoku) অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি এবং মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছিল। ফলে গবেষকদের দৃষ্টি সুকাই মাছের দিকে...ইলিশের দিকে নয়। জাপানের লোককথায় সুকাই মাছের এই ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তবে, আমরা ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও মিয়ানমারের ভূমিকম্পের হিসাবটি দেখতে পারি। সরাসরি ডিপসিক থেকে তুলে ধরছি:
মিয়ানমার
২৮ মার্চ ২০২৫ : ৭.৫ মাত্রার বড় ভূমিকম্প, কেন্দ্র মান্দালয়ের কাছে (সাগাইং ফল্ট)। এরপর ৭.০ মাত্রার আফটারশক হয়েছে।
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প, ম্যাগওয়ে অঞ্চলে (ইয়েনাঙ্গিয়াংয়ের কাছে), সঙ্গে ৫.৩ মাত্রার আফটারশক।
১৮ মে ২০২৬ : ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প, ইয়াঙ্গুনের কাছে।
৫ এপ্রিল ২০২৪ : ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, কাচিন রাজ্যে।
২ জুন ২০২৪ : ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প, বাংলাদেশেও কম্পন অনুভূত।
২৯ মে ২০২৪ : ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প।
২৬ নভেম্বর ২০২৪ : ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প।
এপ্রিল ২০২৫ : একাধিক ভূমিকম্প—৫.৩ মাত্রা (১৩ এপ্রিল) এবং মাস জুড়ে ৪.১–৪.৯ মাত্রার অনেক ঘটনা।
এখন বাংলাদেশ
২১ নভেম্বর ২০২৫ : ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, মধ্য বাংলাদেশে (টঙ্গীর কাছে, ঢাকার কাছে)।
২ জুন ২০২৪ : ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অংশে অনুভূত (কেন্দ্র মিয়ানমারে)।
২৯ মে ২০২৪ : ৫.৪ মাত্রার কম্পন (কেন্দ্র মিয়ানমারে)।
এপ্রিল ২০২৬ : ৫.০ মাত্রার কম্পন ঢাকায় (কেন্দ্র মণিপুর সীমান্তের কাছে, ভারতে)।
জুন ২০২৬ : ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প (কেন্দ্র আসামের শিলচরের কাছে)।
এবার নেপালের দিকে তাকানো যাক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ : ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, চৌতারা, সিন্ধুপালচোক জেলা, মধ্য নেপাল (কাঠমান্ডুর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে)।
২১ ডিসেম্বর ২০২৪ : ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প, পশ্চিম নেপালের বাজুরা জেলা।
২২ মে ২০২৫ : ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, মহাকালী অঞ্চল।
২২ আগস্ট ২০২৫ : ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সংখুয়াসভা এলাকা।
২০২৪ সালে : মোট ২৭টি ভূমিকম্প (৪.০–৫.০ মাত্রার মধ্যে), যার মধ্যে একটি ৫.০ মাত্রার।
সবশেষে আমরা ভারতের দিকে নজর দিতে পারি
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, আসামের ওদালগুড়ি জেলা (কপিলি ফল্টের কাছে)।
২০ আগস্ট ২০২৪ : ৪.৯ ও ৪.৮ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প, জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলা জেলায় (প্রায় ৭ মিনিটের ব্যবধানে)।
২৮ মে ২০২৫ : ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প, মণিপুরে (চুরাচাঁদপুর-মাও ফল্টের কাছে)।
১৩ অক্টোবর ২০২৪ : ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প, আসামের ওদালগুড়ি।
১১ এপ্রিল ২০২৫: ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প, ভারতের রানীর বাজারের কাছে।
মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল ২০২৫ সালের ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, আর বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে কম কম্পন হলেও ২০২৫ সালের ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি উল্লেখযোগ্য ছিল। নেপাল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি মাত্রার (৪–৫.৮) ভূমিকম্প লেগেই আছে।
আমরা দেখছি, মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকার সময়ে ও খানিক আগ দিয়ে অত্র অঞ্চলে যথেষ্টসংখ্যক ভূমিকম্প হয়েছে। কিছু কম্পন অন্য দেশে হলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়েছে। কিন্তু গবেষণা দাবি করছে ইলিশ মাছ ভূমিকম্প বুঝতে পারে না। আমি হতাশ হয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম, বৃষ্টি কি তবে কম হয়েছে? দেখলাম বৃষ্টিও ঢের হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (BMD) উপাত্ত বলছে যে ২০২৪-২০২৫ সালে দেশে অতিবৃষ্টি ও মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।
আবহাওয়ার রেকর্ড থেকে জানা যায় যে, ইলিশ মাছ যখন গুজরাটের দিকে অভিবাসন করছিল, ঠিক সেই সময়টিতেই বাংলাদেশ প্রবল বর্ষণ ও বন্যার মুখে পড়েছিল।
জুলাই ২০২৫ : রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত : বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (BMD) উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩.৫% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বৃদ্ধি : বেশ কিছু বিভাগে বৃষ্টিপাতের হার মারাত্মক বৃদ্ধি পায়, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপকূলীয় অঞ্চল হলো : খুলনা বিভাগ, যেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে +৮২.৯% বেশি বৃষ্টি হয়েছিল আর বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে +৬৪.২% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল।
২০২৪ সালের ভয়াবহ বর্ষা মৌসুম
ক্রমাগত বন্যা : ২০২৪ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে অন্তত তিনবার চরম বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা দেশকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এমনকি কেবল ২০২৪ সালের জুন মাসেই একটি একক ঝড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় ২৪২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা তাদের পুরো মাসের গড় বৃষ্টিপাতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
আর রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি হয়েছিল মে মাসে, ২০২৫ সালে। তখন ঢাকায় এক দিনে ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা গত ৫৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর সিলেটে মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত ৪০৪.৮ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। ফলে মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই প্রাক-বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়, যাতে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টির পানির অভাব ছিল না। ইলিশ তাহলে নদীতে এলো না কেন? আমি এবার ডিপসিককে জিজ্ঞেস করলাম, কীটনাশক, বালাইনাশক ইত্যাদির ব্যবহার নিয়ে। এগুলো ইলিশ মাছের চলাচলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে ডিপসিক আমাকে জানাল। তবে ডিপসিক বারবার বলার চেষ্টা করছে ইলিশ মাছের জন্য ভাটার সময়েও ২০/২২ ফুট পানির গভীরতা থাকতে হবে; কিন্তু বাংলাদেশে এই গভীরতা কমে ৮/৯ ফুট হয়েছে। ফলে ইলিশ মাছ বাংলাদেশের নদীর উজানে আসতে পারছে না। কিন্তু মাত্র ২ বছরে নাব্য কি ১০ ফুট কমে যেতে পারে? ডিপসিক বলছে ফারাক্কার কারণে অনেক ডুবোচর তৈরি হয়েছে আর তাতে মাছেদের চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধি বলছে, অতিবর্ষণের কারণেও মাছ গুজরাটে চলে গিয়ে থাকতে পারে। গুজরাটে এবার যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে নর্মদা নদীর লবণের আধিক্য কমেছে, যা ইলিশ মাছের ডিম ছাড়ার জন্য উপযুক্ত।
ফলে, এখনো আমরা পরিপূর্ণ উত্তর পেলাম না। আমার ব্যক্তিগত সন্দেহ কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ভূমিকম্পের দিকে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে কীটনাশক ব্যবহার হয়েছে ৪১,০০০ টনের বেশি, যা ১৯৯০ সালে ছিল মাত্র ৩,০০০ টন। শুধু গত পাঁচ বছরেই ব্যবহার বেড়েছে ৮১ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কীটনাশক নিম্নমানের বা ভেজাল বলে মনে করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধি বলছে, নদীদূষণে ইলিশের ক্ষতি হচ্ছে। এই কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদীতে মিশছে, আর ইলিশের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে। ইলিশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর পানি দূষিত হলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, আর তখন ইলিশ প্রজননের জন্য ওই এলাকায় আসতে চায় না। কৃষিজমি থেকে আসা রাসায়নিক বর্জ্য (কীটনাশক, সার) নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে, যা ইলিশের জীবনচক্রকে সরাসরি প্রভাবিত করে। এরই মধ্যে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার দূষণ মেঘনা নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ইলিশের প্রধান মাইগ্রেশন পথ।
হাওয়া সিনেমায় একটি জনপ্রিয় গান আছে। বাসুদেব বাউল গেয়েছেন, ৩০ টাকা কেজি মাছ, বাবু কিনে খাবে গো, জল দিয়ে বেশি করিস না, আটটা বাজে দেরি করিস না। ইলিশ নিয়ে আমাদের অনেক গান আছে। মাছটি আমাদের অতিপ্রিয়। ফলে এ নিয়ে গান থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। কলকাতার একটি সাইটে ‘বাংলা আজতক’-এ এমন একটি লোকজ গান হলো 'ইলিশা উঠিয়া বলে খইলসা রে ভাই/ তুমি থাকো খালি-বিলে আমি উজান বাই, মাছ ইলিশারে...' অর্থ হলো: ইলিশ উজানে থেকে আসছে। আর তাতেই তার বিপদ। ধরা পড়ে যায় জেলেদের জালে। গবেষক চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়ের বরাত দিয়ে বলা হলেছে- রংপুরের ধৌলি বর্মণের কাছ থেকে তিনি (গবেষক) শুনেছিলেন, 'নয়া জাল খাগুড়ি মুই ফেলানু সাগরে পরথম খেউয়ের মাছ ইলিশা ওঠে, মাছ মোর ইলিশারে।'
বাড়িতে যখন ইলিশ মাছ আসে তা কাটা, ধোয়া হয়। কী মনে হয় তখন মেয়েদের? মনে মনে ভাবেন পেটি হয়তো তার ভাগ্য জুটবে না। সেটা তিনি জানেন। এ নিয়ে তাকে নোয়াখালীর দেবীরানি ভৌমিক শুনিয়েছিলেন, 'ইলিশ মাছগা কুটে লো বউ পেটির দিকে চায়/ আহারে ইলিশার পেডি কার পাতে যায়, মাছ ইলিশারে।'
মাছে ভাতে বাঙালি কথাটি ইলিশের কারণে হয়েছি কি না তা আমি জানি না। কিন্তু নদী না থাকলে, নদী বিষাক্ত হয়ে গেলে, নদীতে অনেক চর তৈরি হলে, আমাদের হাজার বছরের খাবারের অভ্যাস যে প্রভাবিত হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।




