বৈদ্যুতিক শক লাগলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন

প্রতীকী ছবি
বিদ্যুৎ আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা। এর থেকে আবার ঘটতে পারে দুর্ঘটনাও। সারা দেশে প্রায়ই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সংখ্যাটি আশঙ্কাজনক। বিশেষ করে বর্ষাকালের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ঝুঁকির মাত্রা থাকে বেশি। আশঙ্কা থাকে বৈদ্যুতিক শক লাগার। দুর্যোগের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগে ভেজা শরীরের স্পর্শ লাগলেই মুহূর্তেই ঘটতে পারে বিপদ। কাউকে শক খেতে দেখলে করণীয় কী?
কাউকে শক খেতে দেখলে শুরুতে ঘাবড়ানো যাবে না। এ পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখেই বেশি জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম ৫ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে একটা প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
কারেন্ট লাগলে সঙ্গে সঙ্গে যা করণীয়
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা: আক্রান্তকে ছোঁয়ার আগে মেন সুইচ বন্ধ করুন। জল জমে থাকলে বা সুইচ বন্ধ করা না গেলে শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা শুকনো কাপড় দিয়ে তাকে কারেন্টের উৎস থেকে দূরে সরিয়ে আনুন। খালি হাতে বা ভেজা অবস্থায় ধরা যাবে না।
জ্ঞান ও শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা: কারেন্ট থেকে ছাড়ানোর পর রোগী কথা বলছেন কি না, দেখুন। চিকিৎসককের মতে, রোগী যদি সাড়া না দেয় এবং বুকের স্পন্দন বন্ধ থাকে, তবে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করা জরুরি। অবিলম্বে সিপিআর অর্থাৎ বুকে চাপ দিয়ে শ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে।
সুস্থ মনে হলেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া: অনেক সময় কারেন্ট লাগার পর মানুষ জ্ঞান হারান না। তবে ডাক্তারদের স্পষ্ট বার্তা, বাইরে থেকে সুস্থ দেখলেও কারেন্টের শকে ভেতরের ‘হার্ট রিদম’ বিগড়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ইসিজি করিয়ে নেওয়া জরুরি।
পোড়া জায়গায় পানির ব্যবহার: শরীর পুড়ে গেলে ভুলেও বরফ, তেল বা মলম লাগাবেন না। শুধু সাধারণ ঘরের তাপমাত্রার পানি ঢালুন।
অঙ্গ স্থির রাখা: শক খেয়ে ছিটকে পড়ে হাড় ভেঙেছে মনে হলে সেই অংশটি না নাড়িয়ে কাঠ বা কাপড় দিয়ে সোজা রেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
বর্ষার এ মৌসুমে একটু সচেতনতা আর এই সহজ বিষয়গুলো মাথায় রাখলেই এড়ানো সম্ভব বড় দুর্ঘটনা।




