ওপেনএআই নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ইলন মাস্কের হার

সংগৃহীত ছবি
ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলায় পরাজয়ের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল জুরি রায় দিয়েছে, অনেক দেরিতে মামলা করায় তার অভিযোগ পড়েছে তামাদি আইনের আওতায়। ফলে মামলাটি হয়ে গেছে কার্যত খারিজ।
সোমবার প্রায় ৯০ মিনিটের আলোচনার পর জুরি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। বিচারক ইভোন গঞ্জালেজ রজার্সও জুরির সিদ্ধান্তের সঙ্গে করেন একমত পোষণ। আদালতে তিনি উল্লেখ করেন, জুরির সিদ্ধান্ত সমর্থনের মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে এবং মামলাটি খারিজের বিষয়ে আদালত আগেই যে ইঙ্গিত দিয়েছিল, সেটিই বহাল রাখা হচ্ছে।
ইলন মাস্ক ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন। প্রতিষ্ঠানটির শুরুর দিকে তিনি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওপেনএআই, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মাস্কের অভিযোগ ছিল, ওপেনএআই অলাভজনক কাঠামো থেকে লাভজনক মডেলে রূপান্তরিত হয়ে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গেছে এবং এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা লাভবান হয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে।
তবে ওপেনএআইয়ের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য পরিবর্তন হয়নি এবং এটি এখনো অলাভজনক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, মাস্ক ২০২১ সাল থেকেই এসব পরিবর্তনের বিষয়ে অবগত ছিলেন। পরে নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই গঠনের পর এ মামলা করেন তিনি।
রায়ের পর ওপেনএআইয়ের আইনজীবী উইলিয়াম স্যাভিট বলেছেন, ‘জুরিদের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে, এই মামলাটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। বাস্তবতা হলো, ওপেনএআই একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অতীতেও সেই লক্ষ্য মেনে চলেছে তারা, ভবিষ্যতেও তাই চলবে।’
বিচার চলাকালে ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, মাস্ক নিজেই একসময় প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক কোম্পানিতে রূপান্তরের পক্ষে চাপ দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি সেই কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও করেছিলেন চেষ্টা। ব্যর্থ হওয়ার পরই তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছাড়েন বলে তুলে ধরা হয় আদালতে।
আদালতের কাছে মাস্ক দাবি করেছিলেন, ওপেনএআইকে যেন ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তাদের অলাভজনক শাখায় ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়াও স্যাম অল্টম্যান ও গ্রেগ ব্রকম্যানকে নেতৃত্বের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
এ মামলায় ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুটস্কেভার, সাবেক বোর্ড সদস্য শিভন জিলিসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। আদালতে শত শত ব্যক্তিগত ইমেইল, টেক্সট বার্তা ও অভ্যন্তরীণ নথিও করা হয় উপস্থাপন।
মাইক্রোসফটকেও মামলায় সহ-অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ওপেনএআইয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে তারা। ২০১৮ সালে ওপেনএআই ছেড়ে দেন মাস্ক এবং ২০২৩ সালে গঠন করেন নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআই।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলোর তথ্য ও সময়কাল আগেই স্পষ্ট ছিল এবং জুরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় তারা।
রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান ইলন মাস্ক। তিনি বিচারককে ‘ভয়ানক এক্টিবিস্ট’ বিচারক আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এ রায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
মাস্কের প্রধান আইনজীবী মার্ক টোবেরফ জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
রায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে মাস্কের প্রধান আইনজীবী মার্ক টোবেরফ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তারা। ‘মূলত এটি একটি ভয়াবহ অন্যায়। মাস্ক না থাকলে পার পেয়ে যেত তারা, কিন্তু তাদের পার পাওয়া উচিত নয়।’




