যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিউলিপ নির্বাচিত হওয়ার দাবিটি মিথ্যা

ছবি: আগামীর সময়
গত ২২ জুন যুক্তরাজ্যের ৫৮তম প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে, দেশটির ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকী—শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিউলিপ সিদ্দিকী যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ২২ জুন কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর দেশটিতে এখন অবধি নতুন কেউ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হননি।
কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীত্বের ইতিহাস
অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘সিএনবিসি’ (CNBC)-এর ওয়েবসাইটে গত ২২ জুন ‘Politics UK PM Starmer resigns as Britain faces its seventh leader in 10 years’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২২ জুন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে যত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তাঁদের ইতিহাস সংরক্ষণ করে থাকে ‘মিউজিয়াম অব দ্য প্রাইম মিনিস্টার’। তাদের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাজ্যের ৫৮তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যের নতুন কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে স্বাভাবিকভাবেই সেটি বিশ্ব গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হতো। কিন্তু অনুসন্ধানে দেশটিতে নতুন কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি
তথ্যটির সত্যতা যাচাই না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। পোস্টগুলোর কমেন্ট বক্স পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, অনেকেই সত্য-মিথ্যা বিচার না করে এই ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে টিউলিপ সিদ্দিকীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য বা কমেন্ট করছেন। মূলত তথ্যের সত্যতা যাচাই না করার কারণে সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে এই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সামগ্রিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, টিউলিপ সিদ্দিকী যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিথ্যা তথ্যটি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।





