মহালয়ার পৌরাণিক আখ্যানের মঞ্চরূপ

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজারে মঞ্চায়ন হলো আগমনী ড্যান্স প্রোডাকশন হাউজের নৃত্যনাট্য ‘সর্বভূতেষু সংস্থিতা’। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ছিল এর প্রদর্শনী। দর্শকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল পুরো মিলনায়তন। আগামীকাল সোমবার শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ নৃত্যনাট্যের আরেকটি প্রদর্শনী হবে।
‘সর্বভূতেষু সংস্থিতা’য় মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার ভূমিকায় নৃত্যাভিনয় করেছেন মঞ্চাভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী জ্যোতি সিনহা। এ অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘যুগে যুগে পৃথিবীর সব নারীর বঞ্চনা, অবহেলা, অত্যাচার ও নিগ্রহের এক প্রতিবাদী রূপ হয়ে প্রতি বছর আবির্ভূত হন এক নারীবাদী চরিত্র দেবী দুর্গা। বরাবরই তার প্রতি আমার এক ধরনের মোহ আছে। তাই এমন একটি চরিত্রে কাজ করতে বরাবর আগ্রহ বোধ করি। বিটিভিতে দুবার দুর্গার ভূমিকায় নৃত্যাভিনয় করেছি। এ ছাড়া প্রতি বছর দুর্গাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কাজ করি। এবার মৌলভীবাজার জেলায় তরুণ নৃত্যশিল্পী প্রাপ্ত প্রীতমের আমন্ত্রণে নৃত্যনাট্যে নৃত্যাভিনয় করেছি, ভীষণ ভালো লাগছে।’
নাটকটির ভাবনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় তরুণ নৃত্যশিল্পী প্রাপ্ত প্রীতম। মহাদেবের ভূমিকায় নৃত্য পরিবেশন করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘জ্যোতি সিনহা দেশের একজন গুণী নাট্যশিল্পী, মণিপুরী থিয়েটারের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তিনি মণিপুরী নৃত্য নিয়ে কাজ করেন। তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান শিল্পীকে আমার কাজের অংশ হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভীষণ আনন্দের, গর্বের এবং আবেগের।’ এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৭৫ জন শিল্পী। মহিষাসুরের ভূমিকায় অভিজিৎ কুণ্ডু এবং কালীরূপে আছেন দেবযানী রায়। এ ছাড়া নৃত্যনাট্যে বিভিন্ন চরিত্রে অংশগ্রহণ করেছেন জাতীয়ভাবে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পী অনশ্রী, ঈশিতা বাহাদুর, বিততী বিদ্যা, নিশিতা রাত্রি, কাহিনী দেব, তুলনা তুষ্টিসহ অনেকেই। ৯ বছর ধরে নিজস্ব অধ্যয়ন ও গবেষণার মধ্য দিয়ে পৌরাণিক আখ্যানের পুনর্নির্মাণে কাজ করছে নৃত্যদল আগমনী ড্যান্স প্রোডাকশন হাউজ। প্রতি বছর মৌলভীবাজারে দেবীপক্ষ সংগঠনের আয়োজনে দলটির প্রযোজনায় মহালয়া উপলক্ষে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয় দক্ষিণ এশিয়ার পুরাণ ও নারীশক্তির নানা দিক। এ বছরের প্রযোজনা ‘সর্বভূতেষু সংস্থিতা’তে তুলে ধরা হয়েছে দেবী তথা নারীশক্তির সর্বব্যাপী সত্তা।



