কুমিল্লায় কিশোরী হত্যা
অটোরিকশাচালক সুমন ধর্ষণের পর হত্যা করে তাজমিনকে, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

মো. সুমন। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, গত বুধবার রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। তার গন্তব্য ছিল নগরের রেসকোর্স এলাকার নিজ বাসা। কিন্তু চালক সুমন তাকে শহরের দিকে না নিয়ে অন্য পথে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনাস্থলের পাশে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
চলন্ত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সেই বার্তা দেখতে পাননি।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে অটোরিকশাচালক সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করেও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
নিহত জান্নাতুল যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত সে। স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।
এ ঘটনায় লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আব্দুল আলীম।
পুলিশ জানায়, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তাজমিন।





