দিল্লিতে বাড়ির সামনে থেকে আটক মমতা

ভ্যানে চাপিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: পিটিআই
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধরনায় বসে আটক হলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে আটক করা হয়েছে তৃণমূলের সংসদ সদস্য দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, সামিরুল ইসলামসহ আরও অনেকেকেই।
শনিবার দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মমতা বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ ধরনা দিতেও দিচ্ছে না পুলিশ। ধরনা দেওয়া, প্রতিবাদ জানানো আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। পুলিশ তাতেও হস্তক্ষেপ করছে। অনৈতিকভাবে আমাকে আটক করা হলো। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, জানি না।’
শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েও কেন বাধার মুখে পড়তে হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।
মমতার বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সংবিধানস্বীকৃত। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশি হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা-ও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
এর আগে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছালে সরাসরি বিমানে উঠে তাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগ্রামের নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়।
আজ শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ হওয়ার কথা। বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লি আসছিলেন দীপকে।
বিক্ষোভ থেকে আটক করা হয়েছে সিপিএমের সুজল ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, ঐশী ঘোষ এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও।
ভোট চুরি ও ভোটার তালিকা সংশোধনে জালিয়াতির অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি এ বিক্ষোভের ডাক দেয়।
শনিবার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে এরই মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টিও এদিন নিজেদের সমাজমাধ্যমের পাতায় দেশে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের একাধিক সংসদ সদস্যকে ধরনা থেকে আটক করার ঘটনায় বিরোধীদের প্রতিবাদ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদের অধিকার বনাম প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, এই প্রশ্নেই এখন নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে দিল্লি।




