পূর্ণিমার জোছনায় টাঙ্গুয়ার হাওরে মঞ্চায়িত হবে লোকগাথা ‘মলুয়া’

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে মঞ্চায়িত হবে চন্দ্রাবতী রচিত ‘মলুয়া’
জোছনার আলো, হাওরের জল আর লোকসুরের আবহে এবার ফিরে দেখা হবে বাংলার এক লোককথা। চন্দ্রাবতী রচিত ‘মলুয়া’ মঞ্চায়িত হবে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে। লোকগাথার গল্প, গান, পালাগান, ঢোল, একতারা, দোতারা, গল্পকথন ও লোকনৃত্যের সমন্বয়ে পূর্ণিমার জোছনায় বসবে সুরের আসর। উল্লাস ট্রাভেলের আয়োজনে এবং থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রযোজনায় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় টাঙ্গুয়ার হাওরে মঞ্চস্থ হবে ‘মলুয়া’।
অন্যদিকে, চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষে আগামী ২ অক্টোবর শুক্রবার চুনারুঘাটে অনুষ্ঠিত হবে ‘মলুয়া’র আরেকটি প্রদর্শনী। দুটি আলাদা আয়োজনেই লোকগাথাটিকে নতুন সময়ের ভাষা, দৃশ্যরীতি ও নাট্যনির্মাণে তুলে ধরবে থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি।
মৈমনসিংহ গীতিকার অমর পালা ‘মলুয়া’র ভাষ্যবয়ান ও নির্দেশনায় রয়েছেন সাইফুল জার্নাল। প্রেম, সাহস, আত্মত্যাগ ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রযোজনাটি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন হাসনাত রিপন, নুসরাত ইরা, সাইদুর শাহীন, শাহরিয়ার সজীব, প্রিয়ম মজুমদার, তাহাদিল আহমেদ, হুমায়রা স্নিগ্ধা, গোপী দেবনাথ, ফরহাদ শামীম, নানজীবা শৈলী, পি তে ফজল, মারিয়া ইয়াসমিন, পারভীন সুলতানা কলি, তন্দ্রা হাই, ধ্রুব, পি কে ফজল, সানজিদা চৌধুরী অরিন ও উম্মে প্রেমা প্রমুখ।
নির্দেশক সাইফুল জার্নাল বললেন, ‘এই সময়ে মিউজিকের আদি ও প্রকৃত পারফরম্যান্সটা নাই হয়ে যাচ্ছে। পালা, পুঁথি, গাজীর গীত— যা ছিল বাংলার প্রাত্যহিক পালনের পরম্পরা, পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে এখন এর আয়োজন প্রায় শূন্য। আর যা-ও হয়, তা অপভ্রংশ। আমরা থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি সেই আদি লোক আঙ্গিকের মূল নির্যাসটুকু নিয়ে তা আধুনিক মঞ্চে পুনরায় সৃষ্টি করতে।’
‘মলুয়া’ প্রেম, মর্যাদা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর অদম্য শক্তির কালজয়ী আখ্যান। মলুয়া শুধু প্রেমিকা বা স্ত্রী নন; প্রতিকূলতা, লাঞ্ছনা ও ক্ষমতাবানদের অত্যাচারের মুখেও আত্মমর্যাদা, সততা ও মানবিক শক্তি অটুট রাখা এক দৃঢ়চেতা নারীর প্রতীক। অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সৃজনশীল সেতুবন্ধ তৈরি করে প্রযোজনাটি প্রশ্ন তোলে— সময় ও সমাজ বদলালেও নারীর প্রতি বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের রূপ কি সত্যিই বদলেছে?




