মুক্তির মাত্র দুই দিনেই ওটিটি থেকে গায়েব দিলজিৎ দোসাঞ্জের সিনেমা

দিলজিৎ দোসাঞ্জ
মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে গেল জনপ্রিয় ভারতীয় তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সাতলুজ’।
ভারতের অন্যতম শীর্ষ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘জি ফাইভ’ থেকে সিনেমাটি হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ায় ভারতের বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
প্রযোজনা সংস্থার একটি সূত্রের দাবি, সরকারি নির্দেশের কারণেই তড়িঘড়ি করে প্ল্যাটফর্ম থেকে সিনেমাটি নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘জি ফাইভ’ কেউই এই নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট কারণ এখনো ব্যাখ্যা করেনি।
জি ফাইভ কেবল জানিয়েছে, ‘বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির’ কারণে সাময়িকভাবে সিনেমাটি ভারতে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সিনেমাটি মূলত নব্বইয়ের দশকের পাঞ্জাবের এক সত্য ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। মানবাধিকার কর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবনের গল্প নিয়ে এই সিনেমা। নব্বইয়ের দশকে পাঞ্জাবের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সময় বহু মানুষকে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।
জসবন্ত সিং খালরা যখন এই গোপন হত্যাকাণ্ডের তথ্য ও প্রমাণ জোগাড় করতে শুরু করেন, তখন ১৯৯৫ সালে তিনি নিজেও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরে জানা যায়, তাকে পুলিশই অপহরণ করে হত্যা করেছিল। এই সংবেদনশীল ও বাস্তব ঘটনা নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘সাতলুজ’।
২০২২ সালেই শেষ হয়েছিল এই সিনেমার শুটিং। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড এর ওপর একের পর এক আপত্তি তুলতে থাকে। প্রথমে সিনেমার নাম রাখা হয়েছিল ‘ঘাল্লুঘারা’ যা শিখ ইতিহাসের এক গণহত্যার প্রতীক। সেন্সর বোর্ডের আপত্তিতে নাম বদলে রাখা হয় ‘পাঞ্জাব ৯৫’। এরপর সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি থেকে বাস্তব ঘটনার রেফারেন্স এবং পুলিশের মারধরের দৃশ্যসহ প্রায় ১২৭টি জায়গায় কাঁচি চালানোর নির্দেশ দেয়।
সেন্সর বোর্ডের সাথে এই দীর্ঘ বিরোধের কারণে সিনেমাটি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি ২০২৩ সালের বিশ্বখ্যাত টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও এটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
অবশেষে সিনেমা হলের ঝামেলা এড়াতে নির্মাতারা নাম পরিবর্তন করে সরাসরি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘সাতলুজ’ নামে কোনো কাটছাঁট ছাড়াই এটি মুক্তি দেন। কিন্তু ওটিটিতে আসার মাত্র দুই দিনের মাথায় আবার এটি সরকারি কোপানলে পড়ল।
সিনেমাটি ওটিটি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর এক সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ বলেছেন, ‘আমি জানতাম এমন কিছু একটা হতে যাচ্ছে। ভেবেছিলাম সোমবার সরকারি অফিস খুললে হয়তো এটি নিষিদ্ধ হবে, কিন্তু রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তারা সিনেমাটি নামিয়ে দেবে—এতটা দ্রুত আশা করিনি।’
তিনি আরও জানান, এই ঝামেলার কথা মাথায় রেখেই তারা সিনেমার কোনো প্রচার বা প্রমোশন করেননি, কারণ প্রমোশন করলে হয়তো এটি দুই দিনের জন্যও দর্শক দেখতে পেতো না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ এই সিনেমাটিকে চলতি বছরের অন্যতম সেরা ভারতীয় সিনেমা হিসেবে আখ্যা দিলেও ভারতের দর্শকরা আপাতত এটি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন। পরিচালক হানি ত্রেহান এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে জি ফাইভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই সিনেমার পাশে আছে এবং দ্রুতই এটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।





