অভিনয়ে আসার আগে যে পেশায় ছিলেন এই ৫ অভিনেতা

তারা বড় তারকা এখন। কেউ কেউ চলে গেছেন কিংবদন্তির পর্যায়ে। পর্দায় তাদের উপস্থিতি দেখার জন্য মানুষ টিকিট কেটে হলে আসে। অনেকেই হয়তো জানেন না তাদের প্রিয় তারকারা, তারকা হওয়ার আগে অন্য পেশাতে যুক্ত ছিলেন। কেউ ছিলেন রেস্তোরাঁর কর্মী, কেউ রসায়নবিদ, কেউ বাসের কন্ডাক্টর, আবার কেউ ফটোগ্রাফার। অভিনয়ে এসে বদলে গেছে তাদের পরিচয়। জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচ অভিনয়শিল্পীর গল্প।
অমিতাভ বচ্চন
অভিনয়ের পূর্বে কলকাতায় চাকরি করতেন অমিতাভ বচ্চন। কলকাতায় বার্ড অ্যান্ড কোম্পানিতে ব্যবসায়িক নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। এর আগে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সংবাদ পাঠকের চাকরির জন্য অডিশন দিয়েও সফল হননি। তবে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তাকে শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের দিকে নিয়ে যায়। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে সেই অমিতাভই হয়ে ওঠেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেতা।
রজনীকান্ত
ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় তারকা। কিন্তু অভিনয়ে আসার আগে রজনীকান্তের জীবন ছিল একেবারেই সাধারণ। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি অফিস বয়, কুলি ও কাঠমিস্ত্রির কাজ করেছেন। পরে বেঙ্গালুরুতে বাস কন্ডাক্টর হিসেবেও কাজ করেন। বাসে টিকিট দেওয়া ও যাত্রীদের সঙ্গে তার স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ তখনই তাকে আলাদা করে পরিচিত করে তুলেছিল। পাশাপাশি মঞ্চনাটকে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে সিনেমায় পা রাখেন তিনি।
অক্ষয় কুমার
বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের জীবনেও রয়েছে নানা পেশার অভিজ্ঞতা। থাইল্যান্ডে মার্শাল আর্ট শেখার সময় তিনি রেস্তোরাঁয় ওয়েটার ও শেফ হিসেবে কাজ করেছেন। পরে কলকাতায় ট্রাভেল এজেন্সিতে এবং ঢাকায় একটি হোটেলেও শেফ হিসেবে কাজ করার কথা বিভিন্ন জীবনীতে উঠে এসেছে। এরপর দিল্লিতে গয়না বিক্রির কাজও করেন। দেশে ফিরে মার্শাল আর্ট শেখানোর পাশাপাশি মডেলিংয়ের সুযোগ পান। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তার অভিনয়ের দরজা খুলে যায়।
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে গুজরাটের ভাদোদরায় একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করেন। পরে দিল্লিতে এসে কিছুদিন নিরাপত্তাকর্মীর কাজও করেন। এরপর নাটক দেখতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তার। থিয়েটারে যুক্ত হওয়ার পর ভর্তি হন ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে শেষ পর্যন্ত বলিউডের অন্যতম প্রশংসিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন।
বোমান ইরানি
সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই ছিল বোমান ইরানির গল্প। অভিনয়ে আসার আগে তিনি মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে পরিবারের ওয়েফার ব্যবসা সামলান। এরপর ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং খেলাধুলার ছবি তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাদার কাজ করেন। জীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে অভিনয়ে আসেন তিনি। ৪০-এর কাছাকাছি বয়সে সিনেমায় অভিষেকের পর ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।






