ক্যানসার জয় করে রুপালি পর্দায় বিবেকের দত্তককন্যা

সংগৃহীত ছবি
পর্দায় নায়ক, খলনায়ক কিংবা গ্যাংস্টার—নানারূপেই দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন বলিউড তারকা বিবেক ওবেরয়। তবে রুপালি পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনে তিনি শত শত মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা, সত্যিকারের এক ‘রিয়েল হিরো’।
ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য বিবেক বরাবরই প্রশংসিত। মাত্র আড়াই বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত এক ফুটফুটে শিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ ২০ বছর পর, সেই মরণব্যাধি ক্যানসারকে পুরোপুরি জয় করে এখন বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন তারই দত্তককন্যা সাহারা শাহ।
২২ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘ক্যানসার রোজ ডে’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিবেক ওবেরয়। সেখানেই সবাইকে চমকে দিয়ে মঞ্চে ওঠেন ২২ বছর বয়সী সাহারা শাহ। বিবেকের পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে, তারই সামনে নিজের ডেবিউ নেপালি সিনেমার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি।
একই সঙ্গে উন্মোচন করা হয় সিনেমাটির পোস্টার। দত্তক মেয়ের জীবনের এমন সাফল্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি বিবেক, মঞ্চেই সাহারাকে জড়িয়ে ধরে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাহারা বলেন, ‘আমি ক্যানসার জয় করে এভিয়েশন ট্রেনিং শেষ করেছি। কিন্তু ছোটবেলা থেকে দাদাকে দেখে আমি সবসময় তার পথ অনুসরণ করতে চেয়েছি। আজ আমি একটি নেপালি সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছি। আমার এই ছোট্ট অর্জন দাদার অবদানের তুলনায় কিছুই নয়। তিনি আমার বাবার অভাব পূরণ করেছেন এবং আমাকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন।’
সাহারাকে জড়িয়ে ধরে গর্বিত বাবা বিবেক বলেন, ‘আজ আমার জীবনের অন্যতম গর্বের দিন। আড়াই বছর বয়সে যখন ওকে প্রথম দেখি, কেমোথেরাপির যন্ত্রণার মাঝেও ওর চোখের ভেতরে জেদ আর লড়াই করার তাগিদ দেখেছিলাম। আমি প্রতিদিন ওর জন্য প্রার্থনা করতাম। আজ ও ক্যানসারমুক্ত, একজন পাইলট এবং এখন সিনেমার মূল নায়িকা। তুমি ক্যানসারকে হারিয়েছ বেটা, তুমিই বিজয়ী।’
বিবেক ওবেরয় ও প্রিয়াঙ্কা আলভার দুই সন্তান ভিভান ও আমেয়া থাকা সত্ত্বেও ক্যানসারজয়ী সাহারাকে পরম স্নেহে আগলে রেখে সমাজে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই অভিনেতা। সাহারার এই লড়াই আর সাফল্যের গল্প এখন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে লাখো ক্যানসার আক্রান্ত মানুষকে।




